ট্র্রাম্পের জয়ের আভাস, কপালে চিন্তার ভাঁজ জেলেনস্কির

মার্কিন নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জমজমাট লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে আবারও জো বাইডেনের বিরুদ্ধে রিপাবলিকান প্রার্থী হতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন দৌড়ে যেভাবে ট্রাম্প দৌড়াচ্ছেন তাতে অনেকে আন্তর্জাতিক মিডিয়াই আবারও তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে পারছেন বলে জানিয়েছেন। আর এতেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কপালে চিন্তার ভাঁজ ফুটে উঠেছে। খবর পার্স টুডের। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র সাহায্য নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে ইউক্রেন। কিন্তু চলতি বছর অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হলে আমেরিকার সাহায্য থেমে যেতে পারে বলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, ট্রাম্প কীভাবে পুতিনের পক্ষ নিতে পারেন, তা তিনি বুঝে উঠতে পারেন না। এটা অবিশ্বাস্য। জেলেনস্কি আরও বলেন, আমি মনে করি ডোনাল্ড ট্রাম্প পুতিনকে জানেন না। তিনি পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঠিকই। কিন্তু তিনি কখনো পুতিনের সঙ্গে লড়াই করেননি। আর পুতিন যে কখনো থামবেন না, সেটি ট্রাম্প বোঝেন বলে আমি মনে করি না।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ শুরুর দুই বছরের মাথায় এসে এ যুদ্ধে তার দেশের নিহত সেনাদের পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন। তিনি রাজধানী কিয়েভে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে দুই বছরের যুদ্ধে ৩১,০০০ ইউক্রেনীয় সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধে ইউক্রেনের ৩১ হাজার সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। সংখ্যাটা ৩ লাখ বা দেড় লাখ নয়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ নিয়ে মিথ্যাচার করছেন। যা হোক, আমাদের জন্য এটা অনেক বড় ক্ষতি।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রবল আক্রমণে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের এক গ্রাম থেকে সেনাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন ইউক্রেন সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র। এক প্রতিবেদনে এপি জানিয়েছে, যুদ্ধের তৃতীয় বছরের শুরুতে যুদ্ধক্ষেত্রে জনবল ও অস্ত্রশস্ত্রে রুশ বাহিনী অনেক এগিয়ে রয়েছে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র ডিমিট্রো লাইখভি জাতীয় টেলিভিশনে বলেন, কিয়েভের সেনারা সর্বশেষ ধাক্কা খেয়েছে লাস্টোককাইন গ্রামে। সেখান থেকে পিছু হটে তারা আশে-পাশের গ্রামে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
দোনেৎস্ক শহরের কাছে আভদিভকা শহরতলীর পশ্চিমে রয়েছে লাস্টোককাইন। চার মাসব্যাপী যুদ্ধের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি এই শহরতলী দখল করে নিয়েছিল রাশিয়ার বাহিনী। মস্কোর শক্তিধর সামরিক বাহিনীর কাছে পরাস্ত হয়েছিল এখানকার রক্ষীরা এবং ইউক্রেন তাদের সেনা প্রত্যাহার করে অন্যত্র প্রতিরক্ষা স্থাপনের পথ বেছে নিয়েছিলো।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি স্থানীয় কমান্ডার আন্দ্রেই মর্দভিশেভকে উদ্ধৃত করে বলেছে, রাশিয়ার সেনারা ইউক্রেনের বাহিনীকে ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) পিছনে পিছু হটতে বাধ্য করেছে এবং তারা তাদের আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। ওই সংবাদ সংস্থা বলেছে, ইউক্রেনের এক গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ রুট লাস্টোককাইনের মধ্য দিয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন