সুনামগঞ্জে মহাবিপদে খামারী ও ব্যবসায়ীরা: প্রশাসন নিরব

সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবাধে গরু, ছাগল, মহিষ, ঘোড়া ও চুনাপাথর, কয়লা, চিনি, পেয়াজসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য পাচাঁর করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে একদিকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার, অন্যদিকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত চোরাচালান বাণিজ্য করে সীমান্ত চোরাকারবারীদের গডফাদার ও সোর্স বাহিনীরা এখন কোটিপতি। আর তাদের কারণে মহাবিপদে পড়েছে খামারী ও বৈধ ব্যবসায়ীরা। তারপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্ত চোরাচালান বন্ধের জন্য জোড়ালো কোন পদক্ষেপ নেওয়া খবর পাওয়া যায়না। 
এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী ও খামার মালিকরা জানান- খাদ্য, চিকিৎসা ও বিদ্যুৎ বিলসহ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কারণে পশুপালনে ব্যয় ভার দ্বিগুন বেড়েছে। এমতাবস্থায় জেলার দোয়ারাবাজার, ছাতক, সুনামগঞ্জ সদর, বিশ^ম্ভরপুর, তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলা সীমান্ত পথে প্রতিদিন শতশত গরু, মহিষ, ছাগল পাচাঁর হচ্ছে। পাচাঁরকৃত গরু হাট-বাজারে কম দামে বিক্রি হওয়ার কারণে জেলার খামারীরা পড়েছেন মহা বিপদে। এদিকে গত ৭দিনে তাহিরপুর উপজেলার বীরেন্দ্রনগর সীমান্তের লামাকাটা ও সুন্দরবন এলাকা দিয়ে গডফাদার তোতলা আজাদের নেতৃত্বে তার সোর্স একাধিক মামলার আসামী লেংড়া জামাল, গোলাম মস্তোফা প্রায় ২হাজার মেঃটন কয়লা, ৫শ মেঃটন চিনি ও ২৫০ মেঃটন পেয়াজ পাচাঁর করাসহ পাশের চারাগাঁও সীমান্তের জঙ্গলবাড়ী, কলাগাঁও, এলসি পয়েন্ট, বাঁশতলা ও লালঘাট এলাকা দিয়ে সোর্স রফ মিয়া, আইনাল মিয়া, রিপন মিয়া, সাইফুল মিয়া, দীপক মিয়া, সোহেল মিয়া, আনোয়ার হোসেন বাবলু ও বাবুল মিয়াগং প্রায় ১০হাজার মেঃটন কয়লা ও চুনাপাথরসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য পাচাঁর করে বিজিবি ক্যাম্পের আশেপাশে অবস্থিত ডিপু ও বসতবাড়িতে মজুত করে রেখেছে। অন্যদিকে বালিয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে প্রায় ১হাজার মেঃটন কয়লা ও মাদকদ্রব্য পাচাঁর করে দুধেরআউটা, লাকমা, বিন্দারবন্দ গ্রামে মজুত করেছে সোর্স রতন মহলদার, কামরুল মিয়া, ইয়াবা কালাম, হোসেন আলী, জিয়াউর রহমান জিয়া ও মনির মিয়াগং। এদিকে টেকেরঘাট সীমান্তের চুনাপাথর খনি প্রকল্প, বড়ছড়া, বুরুঙ্গছড়া ও রজনী লাইন এলাকা দিয়ে সোর্স আক্কল আলী, রুবেল মিয়া, কামাল মিয়া, সাইদুল মিয়া ও মুহিবুর মিয়াগং প্রায় ১০হাজার মেঃটন কয়লা ও ১৫শ মেঃটন চুনাপাথর পাথর করে টেকেরঘাট বিজিবি ক্যাম্পের আশেপাশে ও বড়ছড়া শুল্কস্টেশনের বিভিন্ন ডিপু ও বসতবাড়িতে ওপেন মজুত করে রেখেছে। পাশের চাঁনপুর ও লাউড়গড় সীমান্তের নয়াছড়া, গারোঘাট, রাজাই, কড়ইগড়া, বারেকটিলা এলাকা দিয়ে সোর্স জামাল মিয়া, রসমত আলী, নজরুল মিয়া, বটকুন মিয়া, সাহিবুর মিয়াগং ওপেন গরু, মদ, ইয়াবা, চিনি, পেয়াজ, নাসির উদ্দিন বিড়ি ও ফুসকা পাচাঁর করছে। এছাড়া লাউড়গড় সীমান্তের যাদুকাটা নদী, পুরান লাউড়, সাহিদাবাদ এলাকা দিয়ে সোর্স বায়েজিদ মিয়া, জসিম মিয়া, রফিক মিয়া, নুরু মিয়া ও মোস্তাফা মিয়াগং অবাধে পিয়াজ, চিনি, গরু, কয়লা ও পাথর পাচাঁর করে বিজিবি ক্যাম্পের আশেপাশে মজুত করে ওপেন বিক্রি করলে নেওয়া হয়না আইনগত কোন পদক্ষেপ। এছাড়াও পাশের বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার মাছিমপুর, চিনাকান্দি, ডলুরা ও সুনামগঞ্জ সদরের নারায়নতলাসহ একাধিক এলাকা দিয়ে অবাধে চিনি, পেয়াজ ও গরু পাচাঁরের খবর পাওয়া গেছে।
এব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া কয়লা ও চুনাপাথর আমদানী কারক সমিতির আন্তর্জাতি বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের বলেন-সীমান্ত চোরাচালানের কারণে আমরা কয়েক হাজার বৈধ ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছি। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার অবগত করার পরও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়না। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা নবী হোসেন বলেন- গডফাদার তোতলা আজাদ ও তার সোর্স আক্কল আলী চোরাচালান ও চাঁদাবাজি করে কোটিকোটি টাকা মালিক হয়েছে। তারপরও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়না। উত্তর বড়দল ইউপি মেম্বার কফিল উদ্দিন বলেন- চাঁনপুর ক্যাম্পের বিজিবিকে ম্যানেজ করে চোরাকারবারীরা ওপেন গরু,মদ,গাঁজা, ইয়াবা পাচাঁর করছে। আমরা তাদেরকে বারবার জানানোর পরও তারা আইনগত পদক্ষেপ নেয়না।
দোয়ারাবাজার উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও খামারী রফিকুল ইসলাম বলেন- সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ ভাবে আসা গরু বাজার সয়লাব হওয়ার কারণে আমরা খামারীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছি। এব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগীতা জরুরী প্রয়োজন। সুনামগঞ্জের টেকেরঘাট বিজিবির কোম্পানীর কমান্ডার দীলিপ বলেন- সীমান্ত দিয়ে কিছু হতে তো দেখিনা, আপনারা চোরাচালানের খবর পেলে জানাবেন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   
 

বিজ্ঞাপন