শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনার পরও বহাল তবিয়তে শিক্ষক

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনার পরও একই কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে রয়েছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার বিশ্বহরিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমরুল কায়েস। ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে প্রধান শিক্ষক ইমরুল কায়েসকে অনিয়মের অভিযোগে বদলীর প্রস্তাবনা প্রেরণের নির্দেশনা দেয়া হলেও তা কার্যকর করেনি প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
এদিকে দীর্ঘদিনেও অধিদপ্তরের আদেশ কার্যকর না হওয়ায় ওই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর দুই শিক্ষার্থীকে বার্ষিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দিয়ে রাগ ঝেড়েছেন প্রধান শিক্ষক ইমরুল কায়েস। এবিষয়ে ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর ফেল করে দেয়া ছাত্রীর বাবা আব্দুস সালাম বাদী হয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন। গত ২২ জানুয়ারি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান ও নুরুল ইসলাম সরেজমিন তদন্ত করলেও এখনও কোন প্রতিবেদন দাখিল বা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগি ওই অভিভাবক।
জানা গেছে, ধুনট উপজেলার বিশ্বহরিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণীর বার্ষিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় ৬৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। গত ২০ ডিসেম্বর ফলাফলে মাহিয়া খাতুন ৫টি বিষয়ে এবং তার ফুফাতো ভাই শাহাদত ৬টি বিষয়ে ফেল করে।
এবিষয়ে মাহিয়া খাতুনের বাবা আব্দুস সালাম অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বিশ্বহরিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি বিদ্যালয়ের স্লিপের টাকা, ক্ষুদ্র মেরামত, গাছ বিক্রি সহ বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্ণীতি ও অনৈতিক কার্যকলাপ করেছেন। এসব বিষয়ে আমি এবং অভিভাবক জাকারিয়া, ইমরান, শামিম, বিদ্যুৎ সহ অনেক অভিভাবক ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সহ বিভিন্ন দপ্তরের লিখিত অভিযোগ দেয়। একারনে প্রধান শিক্ষক ক্ষুদ্ধ হয়ে ৬৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শুধুমাত্র আমার মেয়ে ও ভাগিনাকেই ফের করে দিয়েছেন।
আব্দুস সালাম আরো জানান, প্রধান শিক্ষক ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে নিকটবর্তী যেকোন বিদ্যালয়ে বদলীর নির্দেশনা দেয়া হয়। পরদিন বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ধুনট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে চিঠি দেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
তবে এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক ইমরুল কায়েস তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্ত কমিটি ওই পরীক্ষার্থীদের খাতা পর্যবেক্ষণ করেছেন। তবে বদলীর বিষয়ে এখনও কোন চিঠি পাইনি।
এবিষয়ে ধুনট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বলেন, অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ি ওই প্রধান শিক্ষককে বদলী করতে পার্শবর্তী একটি বিদ্যালয়ের প্রস্তাবনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ওই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ফেল করার অভিযোগের তদন্ত কমিটি এখনও রিপোর্ট প্রদান করেনি।
এবিষয়ে বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, এবিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজ্ঞাপন