রোমাঞ্চকর ম্যাচে মুম্বাইয়ের দাপুটে জয়

লড়াইটা ছিল আইপিএলের লীগ টেবিলের ৮ আর ৯ নম্বরের দলের। আগের ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ নেয়া মুম্বাই ইন্ডিয়ানস আর পাঞ্জাব কিংসের কাছে এই ম্যাচটি জয়ের ধারায় ফেরার একমাত্র চাবিকাঠি ছিল। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচে ব্যাট হাতে সূর্যকুমার যাদবের বিস্ফোরক ইনিংস আর শেষ দিকের রোমাঞ্চে পাঞ্জাবকে ৯ রানে হারিয়েছে মুম্বাই। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে বড়সড় পরিবর্তন না এলেও প্লে-অফের দৌড়ে টিকে রইল হার্দিক পান্ডিয়ারা।
বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) মুল্লানপুরে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার দল। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিক দল। এরপর শশাঙ্ক সিং ও আশুতোষ শর্মার ব্যাটে ম্যাচে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত জয়ের দেখা পায়নি পাঞ্জাব।
টস হেরে ব্যাট করতে শুরুতেই ধাক্কা খায় মুম্বাই। দলীয় ১৮ রানের মাথায় প্যাভিলিয়নে ফেরেন ওপেনার ঈশান কিষাণ। ফেরার আগে উইকেটকিপার এই ব্যাটারের ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ৮ রান।
দ্রুত উইকেট হারালেও খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি টুর্নামেন্টের রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের। তিনে নামা সূর্যকুমার যাদবকে নিয়ে দলীয় রানের চাকা সচল রাখেন আরেক ওপেনার রোহিত শর্মা। এই জুটিতে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৫৪ রান তোলে মুম্বাই।
এরপরও রোহিত এবং সূর্যকুমারের তাণ্ডব চলতে থাকে। তবে দলীয় ৯৯ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন রোহিত। স্যাম কারানের স্লোয়ারে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ব্রার তালুবন্দি হওয়ার আগে ৩ ছক্কা আর দুই চারে ২৫ বলে ৩৬ রানের ইনিংস সাজান দলটির সাবেক এই অধিনায়ক।
তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকেন সূর্যকুমার। রোহিতের পর তাকে সঙ্গ দেন তিলক ভার্মা। মারমুখী ব্যাটিংয়ে দ্রুতই ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন সূর্য। তার সামনে সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ারও সুযোগ ছিল। তবে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেননি তিনি। কারানের ফুল অ্যান্ড ওয়াইড লেন্থের ডেলিভারিতে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ৭ বাউন্ডারি আর ৩ ওভার বাউন্ডারিতে ৫৩ বলে ৭৮ রানের মারকাটারি এক ইনিংস খেলেন সূর্যকুমার।
শেষ দিকে তিলকের তাণ্ডব আর টিম ডেভিডের ৭ বলে ১৪ রানের ক্যামিওতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৯২ রানের পুঁজি দাঁড় করায় মুম্বাই। ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ১৮ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিলক।
পাঞ্জাবের হয়ে হার্শাল প্যাটেল তিনটি, স্যাম কারান দুটি উইকেট নিয়েছেন। এ ছাড়া কাগিসো রাবাদার শিকার এক উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খায় পাঞ্জাব। দলীয় ১৪ রানের মাথায় টপ-অর্ডারের ৪ ব্যাটারকে হারিয়ে বসে তারা। দুই অঙ্কের কোটা ছোঁয়ার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন স্যাম কারান, প্রভসিমরন সিং, রাইলি রুশো এবং লিয়াম লিভিংস্টোন।
এরপর শুরুর সেই ধাক্কা সামাল দেন হারপ্রিত ও শশাঙ্ক। পাওয়ারপ্লে শেষে পাঞ্জাবের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৪০ রান।
এরপর স্কোরশিটে ৯ রান যোগ করতেই ফেরেন হারপ্রিত। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে আবারও নিজের জাত চেনান ভুলক্রমে পাঞ্জাবের দলে জায়গা পাওয়া শশাঙ্ক।
শেষ দিকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন আশুতোষ শর্মা। এই জুটিতেই জয়ের স্বপ্ন বুনেছিল পাঞ্জাব। তবে দলীয় ১১১ রানে ব্যক্তিগত ৪১ রানে শশাঙ্ক ফিরলে আবারও ফিকে হয়ে যায় স্বাগতিকদের জয়ের স্বপ্ন।
এরপর প্রীতি জিন্নাতার দলের নিবু নিবু হারের মুহূর্তে জ্বলে উঠেন আশুতোষ। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ২৩ বলেই হাফ-সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেলেন এই ব্যাটার। তবে দলীয় ১৬৮ রানের মাথায় ২৮ বলে ৬১ রানে আশুতোষ ফিরলে আর ম্যাচে ফেরা হয়নি পাঞ্জাবের। শেষ পর্যন্ত ৯ রানের নাটকীয় জয় পায় মুম্বাই।
মুম্বাইয়ের হয়ে বুমরাহ ও কোয়েৎজি তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। এ ছাড়া আকাশ মাধেওয়াল, হার্দিক পান্ডিয়া এবং শ্রেয়াস গোপালের শিকার একটি করে উইকেট।ৎ

 

#আব্দুল ওয়াদুদ

বিজ্ঞাপন