নবাবগঞ্জে ভুয়া দাতা সেজে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তির অভিযোগ

দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার ৪নং  শালখুরিয়া ইউনিয়নের ছোট তেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত মোবারক আলী মন্ডলের পুত্র ছোট তেঁতুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ঈদগাহ্ ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব নুর মুহাম্মদ ও ছোট তেঁতুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেজবাউল হকের বিরুদ্ধে আবেদনকারির ওয়ারিশদের একই জমি দূ'টি প্রতিষ্ঠানে ভুয়া দলিলে রেজিস্ট্রি দেওয়ায় জমি উদ্ধার চেয়ে এলাকার মৃত: রহিম উদ্দিন মন্ডলের ছেলে ভূক্তভোগী নজরুল ইসলাম নবাবগঞ্জ উপজেলা  মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ছোট তেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত:মোবারক আলি মন্ডলের ছেলে হাজী নূর মোহাম্মদ সমাজে দানবীর সাজতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আমার দাদা আইন উদ্দিন মন্ডলের রেকর্ডিয় সম্পত্তি ভুয়া দলিল করেন। যাহা ওয়ারিস হিসেবে আমাদের ভোগ দখলীকৃত।ছোট তেঁতুলিয়া মৌজার সি এস খং -১৮, এসএ খং ২৫, দাগ নং ১১ এর ১৪ শতাংশ ও দাগ নং ১৬ এর ৮ শতাংশ সহ ২২ শতাংশ জমি ছোট তেঁতুলিয়া  নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় এর দাতা হিসেবে "মহাপরিচালক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষা অধীদপ্তর, ঢাকা" এর অনুকূলে দানপত্র দলিল সম্পাদন করেন। সেই জমি  ২৯/১০/১৯৯৫ সালে ৫৯১৪ নং ও ১৪/০৯/১৯৯৫ সালে ৫৬৪২ নং দলিল মুলে ভুয়া মালিক সেজে রেজিষ্ট্রি দেন। এ রকম ভাবে মসজিদ ও ঈদগাহ্রে আরো অনেক জমির দলিল ভুয়া করে জবর দখল করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে গিয়ে  স্কুলের সাইনবোর্ডে দেখা যায় স্কুলটি ১৯৯৪ খ্রী: প্রতিষ্ঠিত। অভিজ্ঞ মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে জমি দেওয়া হয়েছে ১৯৯৫ সালে আর স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ১৯৯৪ সালে।  মহা প্রতারণার মাধ্যমে মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। 
এ বিষয়ে তেতুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেজবাউল হক বলেন, আমি ২০০০ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেছি।  পাঁচকান না করার শর্তে তিনি আরো বলেন,  সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ এঁর একক ছত্রছায়ায় ও একক সিদ্ধান্তেই স্কুল ও স্কুল সংলগ্ন মসজিদটি পরিচালিত হয়ে আসতো। তিনি কাউকে বিদ্যালয়ের জমিজমাসহ কোন কিছুর বিষয়ে জানাতেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার বেশ কয়েকজন সচেতনব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ ঠক প্রতারক ভূমিদস্য। এলাকার সহজ- সরল মানুষদের বোকা বানিয়ে নিজে দানবীর সাজার জন্য অপরের পৈতৃক সম্পত্তি নিজেই দাতা সেজে দু'টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কে প্রদান করেছেন। তাঁরা জানান, জনৈক আমিনা খাতুন একই তফসিলের একই দাগের প্রায় ১, ৪২ একইর জমি ৭/৬/১৯৬৫ সালে ৩৯ নং দলিল মুলে ছোট তেঁতুলিয়া ঈদগাহ্ ও জামে  মসজিদের সভাপতি সম্পাদক বরাবরে  দান করেছেন।      

ছোট তেঁতুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মহরম আলি জানান, আমি সবেই অত্র বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়ীত্ব পেয়েছি। এ সব ঘটনার কোন কিছুই আমি জানিনা। ঈদগাহ ও মসজিদের সম্পত্তি অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব নূর মোহাম্মদ ভুয়া রেজিঃ দানপত্র দলিল করিয়েছেন। সেই বিয়ষটি আমি লোক মুখে শুনেছি। এখন আপনাদের কাছ থেকে জেনে নিশ্চিত হলাম। আমিও সঠিক সত্যটায় আশা করছি।
এ বিষয়ে আলহাজ্জ্ব  নূর মোহাম্মদ এ অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবী করে বলেন, অভিযোগকারী  নজরুল ইসলাম ও ছোট তেঁতুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি মহরম আলি উভয়ের আমার কর্মচারী  ছিলেন। তারা অসৎ ও দৃর্ণীতিবাজ হওয়ার তাদের কর্মথেকে অব্যহতি দেয়ার কারণেই আমার মানসন্মান ক্ষুন্ন করতেই মিথ্যা অভিযোগ তূলেছেন।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দীপক কুমার বণিকের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি ঘটনায় সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলার ছোট তেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত:রহিম উদ্দিন মন্ডলের ছেলে মো,নজরুল ইসলাম উপজেলার ছোট তেঁতুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের জমির মালিকানার দাবীতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব নূর মোহাম্মদ এঁর বিরুদ্ধে  তাঁদের জমি বিদ্যালয়ের নামে ভুয়া জমির দাতা সেজে দলিল সম্পাদন করার অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
এলাকার সর্বস্থরের সচেতন মহল তদন্তপূর্বক দোষী ব্যক্তিদের সনাক্তকরে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।।

বিজ্ঞাপন