মাঠে সেদিন কি হয়েছিল, জানালেন মুশফিক, রিয়াদ ও সেই নারী আম্পায়ার

নারী আম্পায়ার নিয়ে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কটু মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা আর সমালোচনার ঝড়। যদিও এই ঘটনা নিয়ে রয়েছে নানা মতভেদ। তবে এইসব ছাপিয়ে নিজের মতামতকে প্রচার করছে নেটিজেনরা। তাদের কেউ এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন আবার অনেকে এর বিরোধিতা করে একে গুজব বলে আখ্যায়িত করছেন। এতে একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরে ফিরে আসছে, কি হয়েছিল সেদিন মাঠে? তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন খোদ জাতীয় দলের অভিযুক্ত খেলোয়াড় ও সেই আলোচিত নারী আম্পায়ার সাথিরা জাকির।
রোববার (২৯ এপ্রিল) এ বিষয়ে জাতীয় দলের খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিম বলেছেন, আমি বা আমাদের কোনো খেলোয়াড় এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলিনি এবং কোনো আপত্তিও জানাইনি। আমি বরং এটা দেখে খুবই আনন্দিত হয়েছি যে একজন নারী আম্পায়ার এত দূর এসেছেন এবং আমাদের দেশ থেকে তিনি আইসিসির প্যানেল আম্পায়ার হয়েছেন। এ জন্য আমি তাঁকে অভিনন্দনও জানিয়েছি।
মুশফিক বলেন, দুই ক্লাবের পক্ষ থেকে যদি কিছু বলা হয়েও থাকে, সেটা সাথিরা জাকির নারী আম্পায়ার বলে নন, তা হতে পারে এ রকম বড় ম্যাচে লিগে কারও অন ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে অভিষেক হচ্ছে দেখে। তিনি মেয়ে বলে নন, এই ম্যাচে একজন পুরুষ আম্পায়ারের অভিষেক হলেও হয়তো প্রশ্নটা উঠত বলে জানান জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেন, ম্যাচ শেষে আমি তো ওনাকে (সাথিরা জাকির) আরও অভিনন্দন জানালাম! সাধুবাদ জানিয়ে বলেছি, ‘খুব ভালো আম্পায়ারিং করেছেন।’ আমি মুশফিক, তামিম… আমরা এত বছর ধরে ক্রিকেট খেলছি, সবাই নিশ্চয়ই বুঝবেন, আমরা এ রকম কিছু করার মানুষ নই। তারপরও কী চিন্তা করে এসব বলা হয়, বুঝি না। এটা ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর।
এদিকে প্রাইম ব্যাংক এবং মোহামেডানের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। প্রাইম ব্যাংক বিবৃতিতে বলে, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব প্রগতিতে বিশ্বাসী এবং সব লিঙ্গ-ধর্ম-বর্ণের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মাঝেমধ্যে ম্যাচ চলাকালে আম্পায়ারদের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খেলোয়াড়েরা মাঠেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন, যা খেলারই অংশ। প্রকাশিত খবরে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট আম্পায়ারের অধীনে ম্যাচ খেলতে চায়নি বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা একেবারেই ভিত্তিহীন।
মোহামেডান ক্লাবের কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেছেন, নারী আম্পায়ারের অধীনে খেলব না, এমন কিছু আমরা বলিনি। এ ব্যাপারে কারও কাছে কোনো অভিযোগও মোহামেডান করেনি। পুরোটাই মনগড়া।
যাকে নিয়ে এই আলোচনার সূত্রপাত সেই নারী আম্পায়ার সাথিরা জাকির বলেছেন, অনেক বড় মাপের ম্যাচ, বড় টুর্নামেন্ট। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চেয়েও প্রিমিয়ার লীগের চাপ অনেক বেশি। সেদিক থেকে অবশ্যই ভালো লাগছে। দিনের শুরুতে স্বাভাবিকভাবেই একটা চাপ থাকে। একটা সময় পর ঠিক হয়ে গেছে। গরম ছিল, সবকিছু মিলিয়ে ভালো কেটেছে। ম্যাচ শেষে মাহমুদউল্লাহ ভাইসহ অন্য ক্রিকেটাররা আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তাহলে দুই ক্লাব বা তাদের ক্রিকেটাররা নারী আম্পায়ারের পরিচালনায় খেলতে চান না—এ আলোচনার সূত্রপাত কোথা থেকে? এই বারুদে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়েছে আসলে বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান ইফতেখার আহমেদের একটি বক্তব্য। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেছেন, বিসিবি মহিলা আম্পায়ার নিয়োগ করায় তারা (প্রাইম ব্যাংক ও মোহামেডান) অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তারা (প্রাইম ব্যাংক ও মোহামেডান) আমার কাছে অভিযোগ করেনি। তবে সিসিডিএমের কাছে অভিযোগ করেছে।
কিন্তু ইফতেখার আহমেদের এমন বক্তব্যের দায় নিতে চাইছে না সিসিডিএম। সিসিডিএম প্রধান মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন চৌধুরী কাল বলেছেন, সিসিডিএমের কাছে কোনো ক্লাব বা ক্রিকেটার কোনো অভিযোগ করেনি এবং সিসিডিএমও এমন কোনো অভিযোগের কথা আম্পায়ার্স কমিটির কাউকে জানায়নি। একই কথা বলেছেন ম্যাচের দিন মাঠে থাকা সিসিডিএমের অন্য কর্মকর্তারাও।
তাহলে আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান কোথা থেকে জানলেন, নারী আম্পায়ার নিয়ে দুই ক্লাব সিসিডিএমে অভিযোগ করেছে? কাল এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ইফতেখার আহমেদ বলেন, মাঠে যারা ছিলেন, তাঁরাই আমাকে এটা জানিয়েছেন। সিসিডিএম থেকেও আমি শুনেছি। তবে কে বলেছে, তার নাম বলা যাবে না।
তবে ইফতেখার আহমেদও বলেছেন, এ নিয়ে কোনো ক্রিকেটারের দিক থেকে কোনো আপত্তি ছিল না, ক্রিকেটারদের দিক থেকে কোনো সমস্যা ছিল না। ম্যাচ শেষে মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, তামিমরা জেসিকে (সাথিরা জাকির) অভিনন্দন জানিয়ে বলেছে—ওয়েল ডান।

বিজ্ঞাপন