কিস্তিতে গরুর মাংস, গ্রামে গ্রামে সমিতি

সব শ্রেণি-পেশার মানুষই চায় ঈদের দিন ভালো খাবার খেতে। ঈদের দিন সবাই অন্তত চেষ্টা করেন পাতে মাংস তুলে দেয়ার। তবে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নাজেহাল মানুষের মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তো বাধ্য হয়ে গড়ে তুলছেন সমিতি। যে সমিতিতে সারা বছর কিছু কিছু করে টাকা জমিয়ে ঈদের আগে গরু কিনে ভাগবাটোয়ারা করা হবে মাংস।
সচরাচর বাজারে গরুর মাংস কিনতে গেলে দাম পড়ছে কেজি প্রতি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। এতে অনেক দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ তার পরিবারের জন্য গরুর মাংস কিনতে পারে না।
তবে গরুর সমিতি করার মাধ্যমে খেটে খাওয়া দিন মজুর মানুষগুলো ঈদে খেতে পারে গরুর মাংস।  প্রতি সপ্তাহে ২০০ টাকা বা ১০০ টাকা কিস্তিতে জমা করে মাংসের সমিতির ফান্ডে। বছর শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতরের এক বা দুই দিন পূর্বে সমিতির গচ্ছিত টাকা দিয়ে কেনা হয় গরু। সেই গুরু জবাই দিয়ে সমিতির সদস্যরা মাংস ভাগ করে নেয়।
পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি এলাকায় দুই থেকে তিনটি গরুর সমিতি। প্রতিটি সমিতি ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা সদর উপজেলার শাহিন, ফারুক, সোহেল, ময়নুল, সাগর, খাইরুল, সুজন বলেন, আমাদের মতো মানুষের জন্য গরুর সমিতি সবচেয়ে ভালো। একসাথে ২ থেকে ৩ কেজি মাংস কিনতে গেলে প্রায় আড়াই হাজার টাকা লাগবে। এত টাকা একসাথে জমিয়ে মাংস কেনা কষ্টসাধ্য। কিন্তু আমরা গরুর সমিতি করার ফলে প্রতি সপ্তাহে কিছু করে টাকা দিয়ে রাখি এতে আমাদের মাংস কিনতে বেশি কষ্ট হয় না।
এই বিষয়ে আরও জানতে চাইলে পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ পাবনা জেলা শাখার আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন শুভ বলেন, আসলে এটা ভালো উদ্যোগ। এতে সমাজের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকে। একসঙ্গে সবাই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারে। তবে গরু জবাই অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট স্থানে করতে হবে।

বিজ্ঞাপন