গাজা যেন ‘মৃত্যুপুরী’

ইসরায়েলের হামলা ও অবরোধের কারণে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস। বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা। টেড্রোস বলেন, ‘গাজার স্বাস্থ্য ও মানবিক পরিস্থিতি অমানবিক ও ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। বৃহত্তর অর্থে গাজা একটি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।’
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৯ হাজার ৩১৩ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া এ পর্যন্ত আহত হয়েছে ৬৯ হাজার ৩৩৩ জন।
গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ করে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে ১২০০ ইসরায়েলিকে হত্যার পাশাপাশি প্রায় ২৫০ ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে গাজায় বন্দি করে নিয়ে আসে হামাস। একই দিন হামাসকে নির্মূল এবং বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসরায়েল। গত নভেম্বরে সাতদিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিনিময়ে ১১০ ইসরায়েলি বন্দিকে হামাস মুক্তি দিলেও এখনো তাদের হাতে শতাধিক বন্দি আছেন।
হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রথম দিকে ইসরায়েলি বাহিনী উত্তর গাজায় হামলা চালায়। ফলে ইসরায়েলি হামলা থেকে বাঁচতে অধিকাংশ ফিলিস্তিনি দক্ষিণ গাজায় এসে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এখন দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে রাফা শহরে স্থল অভিযানে নামার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইসরায়েলি হামলা থেকে বাঁচতে এই রাফা শহরে গাজার মোট ২৩ লাখ জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

বিজ্ঞাপন