আবু হায়দারের তোপে বিধ্বস্ত বরিশাল

রংপুরের বিপক্ষে যেভাবে শুরু করেছিল বরিশাল, মনে হচ্ছিল অনায়াসেই সংগ্রহ দুই শ’ পাড়ি দিবে। তবে বাঁধ সাধলেন রনি তালুকদার। অনেকটা যেন সিলেবাসের বাইরে থেকে এসে ধস নামালেন বরিশাল শিবিরে। একাই তুলে নিলেন ৫ উইকেট। তাতে শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫১ পর্যন্ত পৌঁছায় কীর্তনখোলা পাড়ের দলটি।
সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামে বিপিএলের এ ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ইনিংস শুরু করেছিলেন তামিম। পরের চার ওভারে চালান তাণ্ডব। স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ৩৮ রান, যার মাঝে ৩৩ আসে তামিমের ব্যাটে। তাকে ফিরিয়েই দলকে প্রথম উপলক্ষ এনে দেন সাকিব। দু’জনের দ্বৈরথে জিতে গেলেন নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার।
তামিমকে ফিরলেও কমেনি বরিশালের রানের গতি, আরো বাড়িয়ে দেন কাইল মায়ার্স। দু’জনের যুগলবন্দীতে আসে ৪৭ বলে ৭২ রান। জুটি ভাঙেন নিশাম। ১১.৪ ওভারে দলীয় ১১০ রানের ফেরেন টম ব্যান্টন। ২৪ বলে ২৬ করে আউট হন তিনি। এরপরই রূপকথার মতো যেন সব বদলে যায়। ইনিংসের মোড় ঘুরিয়ে দেন আবু হায়দার রনি। বল হাতে নিয়ে প্রথম বলেই পান উইকেটের দেখা, একই ওভারে নেন আরো দুই উইকেট। প্রথম বলে মুশফিককে ফেরান সোহানের ক্যাচ বানিয়ে, একবল পর সৌম্যকে ফেরান ০ রানে। তবে বড় শিকারটা করেন ৫ম বলে। মায়ার্সকেও ধরান সাজঘরের পথ।
আউট হওয়ার আগে জ্বলে উঠেছিলেন মায়ার্স। কেউ দাঁড়াতে পারছিল না তার বিপরীতে। তবে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে তাকে ফেরান রনি। আউট হন ২৭ বলে ৪৬ রান করে। তবে এখানেই শেষ নয় পরের ওভারে এসে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেও পরিণত করেন শিকারে, আউট করেন ৯ রানে।
মেহেদী মিরাজকে ১৭তম ওভারে ফিরিয়ে পূরণ করেন ৫ উইকেটের মাইলফলক। সেজদা দিয়েই তা উদযাপন করেন এই পেসার। ততক্ষণে বরিশাল দেখতে শুরু করেছে চোখে অন্ধকার। পরের ওভারে হাসান মাহমুদ কেশভ মহারাজকে ফেরালে ১২৯ রানে ৮ উইকেট হারায় বরিশাল!
১১০ রানে ১ উইকেট থেকে পরের ১৯ রান তুলতে ৭ উইকেট হারানো দলটা নবম উইকেট হারায় শেষ ওভারে সাইফুদ্দীন ১০ রানে ফিরলে। তাকেও ফেরান হাসান মাহমুদ। ১২ রানে ৫ উইকেট নেন রনি, যা বিপিএল ইতিহাসের চতুর্থ সেরা স্পেল। এবারের বিপিএলে সবার সেরা।
 

বিজ্ঞাপন