বগুড়ায় অজ্ঞান পাটির খপ্পরে ১জন ও গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে ২জনের মৃত্যু

৬৫
আব্দুল ওয়াদুদ : 
টাঙ্গাইল থেকে ট্রাকযোগে কুড়িগ্রাম বাড়িতে ফেরার পথে চার শ্রমিক অজ্ঞানপাটির খপ্পরে পড়ে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পাশে পড়ে থাকলে সেখান থেকে অজ্ঞান অবস্থায়  তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার (৭ এপ্রিল) সকালে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের আদমদীঘির ঢাকারোড নামক স্থান থেকে পুলিশ উদ্ধার করে আদমদীঘি হাসপাতালে ভর্তি করান। এদের মধ্যে চিকিৎমাধীন অবস্থায় বিকেলে অজ্ঞাত (৪১) এক ব্যক্তি মারা যায়। অপর তিন জন বর্তমানে সুস্থ্য রয়েছে। তারা হলেন নিলফামারি জেলার ডিমলা উপজেলার নিজসুন্দরপাকা গ্রামের মামিনুল ইষলামের ছেলে তবিবুর (১৮), কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার আরজি নিউওয়াশি ফরে উদ্দিনের ছেলে নুর হোসেন (৩৫) ও একই জায়গার দাবিছড়া গ্রামের মতিয়ার রহমান (৪৬)।
আদমদীঘি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ তবিবুর রহমান জানায়, মঙ্গলবার রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকে অচেনা এক ব্যক্তিসহ আমরা চার শ্রমিক বাড়ির উদ্যেশে রওয়ানা দেই। পথিমধ্যে তারা সিরাজগঞ্জের পাপিয়া হোটেলে রাতের খাবার খাওয়ার পর অচেনা ওই ব্যক্তি ৪জন শ্রমিককে সেভেন আপ খাওয়ান। এরপর তারা ট্রাকে উঠার পর ক্রমেই অসেচতন হয়ে পড়লে তাদের নিকট থেকে ৪টি মোবাইল ফোন ও ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। গতকাল বুধবার সকালে আদমদীঘির ঢাকারোড নামক স্থানে সড়কের পাশে তাদের ফেলে রেখে ট্রাক পালিয়ে যায়। অসচেতন অবস্থায় চার শ্রমিককে জনতা পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দিলে অসেচতন অবস্থায় উদ্ধার করে আদমদীঘি হাসপাতালে ভর্তি করান পুলিশ। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টায় চারজনের মধ্যে অজ্ঞাত ব্যক্তিটি মারা যায়। তার বাড়ি গাইবান্দার পলাশ বাড়ি বলে জানাগেছে। আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ জালাল উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে।
অন্যদিকে, বগুড়ার শেরপুরে খামারকান্দি ইউনিয়নের মাঠপাড়া এরাকায়  জালাল উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা (৪৫) আজ বুধবার সকালে পারিবারিক কলহের জের ধরে গ্যাস ট্যাবলেট খায়। এ সময় সে অসুস্থ হয়ে পড়লে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কেলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন সন্ধায় মনোয়ারা মারা যায়। এ বিষয়ে শেরপুর থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুুল কালাম আজাদ জানান, সদর থানা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অপরদিকে, বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খরনা ইউনিয়নের সরকার পাড়া গ্রামে ঝরনা বেগম (৫০) নামের এক গৃহবধূর অপমৃত্যু হয়েছে। সে ওই গ্রামের আবু তালেবের স্ত্রী। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে সবার অগোচরে ঝরণা বেগম গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়। শাজাহানপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ময়না তদন্ত শেষে বুধবার পরিবারের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের ভাসুর আব্দুল মতিন জানান, অত্মহত্যা করার মত কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। পরিবার বা প্রতিবেশি কারো সাথে তার বিবাদ হয়নি। থানায় ইউডি মামলা হয়েছে উল্লেখ করে শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, লাশে ময়না তদন্ত হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.