স্থানীয়দের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ রোহিঙ্গাদের চাকরি দিচ্ছে এনজিওগুলো

আনোয়ার হাসান চৌধুরী, কক্সবাজার :
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে চাকরিসহ নানা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে স্থানীয়রা। গতকাল সকালে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ার থাইংখালী এলাকায় অবস্থান নেয় তিন শতাধিক স্থানীয় লোকজন। তাদের দাবি, কয়েকটি এনজিও সংস্থা শরণার্থী ক্যাম্পে চাকরিতে স্থানীয়দের বঞ্চিত করে রোহিঙ্গাদের নিয়োগ দিয়েছে। এনজিওদের এসব কার্যক্রম বন্ধ করে স্থানীয়দের চাকরি দিতে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও কোনো কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়রা।

জানা গেছে, সমস্যা নিরসনে আন্দোলনকারী ও এনজিওর সঙ্গে বৈঠক করছে উপজেলা প্রশাসন। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ার থাইংখালী এলাকা। যেখান প্রতিদিন শত শত এনজিওকর্মী এই এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরিতে যান। কিন্তু এদিন সকাল থেকে ওই স্থানে অবস্থান নেন স্থানীয় লোকজন। রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে রাস্তার দু’পাশে অবস্থানে গাড়ি তল্লাশি করে এনজিওকর্মীদের ক্যাম্পে প্রবেশে বাধা দেন তারা। এনজিও কর্মীরা বলছেন, এর আগেও দুবার আন্দোলন করেছেন স্থানীয়রা। ক্যাম্পে যাওয়ার পথে এনজিওকর্মীদের গাড়ি থেকে নামিয়েও দেওয়া হয়েছে।

চাকরিসহ নানা দাবিতে অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে এই আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রায় ৩ শতাধিক স্থানীয় লোকজন।
তাদের দাবি, কয়েকটি এনজিও সংস্থা ক্যাম্পে চাকরিতে স্থানীয়দের বঞ্চিত করে রোহিঙ্গাদের নিয়োগ দিয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের বাদ দিয়ে স্থানীয়দের চাকরিতে নিয়োগের দাবিতে ৫ মাস ধরে আন্দোলন করলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। আন্দোলনকারী এক যুবক বলেন, আমরা যারা স্থানীয় শিক্ষিত আছি উনাদের ছাঁটাই করে রোহিঙ্গাদের নিযোগ দেওয়া হচ্ছে। সে সময় কাফনের কাপড় করেও আন্দোলন করতে দেখা গেছে এক স্থানীয় যুবককে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানালেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না করে এনজিওগুলো তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। উখিয়া থানার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমাদের দাবি হচ্ছে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করতে হবে। অন্যথায় স্থানীয়দের আহারের ব্যবস্থা করতে হবে। আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে গেছেন ৩ শতাধিক এনজিওকর্মী।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.