উত্তরাঞ্চলে যমুনা নদীতে দুই শতাধিক চর জেগে উঠেছে

১৭

টি এম কামার : এককালের খরস্্েরাতা যমুনা এখন একেবারে মৃতপ্রায়। এ নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে বিভিন্ন আন্তঃইউনিয়ন নৌরুটে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মাইলের পর মাইলজুড়ে জেগে উঠেছে অসংখ্য বালুচর। এলাকার শত শত জেলে ও মাঝি এখন বেকার হয়ে পড়েছেন। সমস্যায় পড়েছেন উত্তরঞ্চালসহ দেশের অন্যান্য এলাকার ব্যবসায়ীরাও। মালপত্র পরিবহনে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

যমুনার পানি বর্তমানে সর্বনিম্ম স্তরে নেমে এসেছে। আগে কখনোই এ মৌসুমে এত আগে এভাবে পানি শুকিয়ে যায়নি। ফলে নৌচলাচল রুটগুলোতে জমেছে বড় ধরনের বালুচর। ফাল্গুুুু মাস থেকেই যমুনা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জেগেছে ছোট-বড় অসংখ্য চর। এদিকে নদীর পানি হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ২০টি নৌঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। যমুনার ভাঙা-গড়ায় নৌঘাটগুলো এখন অতীত ইতিহাস। এক সময় নৌবন্দর পাট ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। পক্ষান্তরে পার্শ্ববর্তী নৌবন্দর ছিল বিশাল তেলের ডিপো। নৌবন্দরে নিয়মিত জাহাজ ভিড়ত। যমুনার ভাঙনে বিশাল এলাকাসহ নদীতে হারিয়ে গেছে বন্দরগুলোর মূল কাঠামো। এ অবস্থায় পানি হ্রাস পেয়ে নদীর বুকে চর জেগে নৌযান ও জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বন্দরের কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্রুত পানি হ্রাস পাওয়ায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় ছোট-বড় দুই শতাধিক চর ও ডুবোচর জেগে উঠেছে। উপজেলার অভ্যন্তরীণ নৌরুটগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে।

বর্তমানে আন্তঃজেলা নৌরুট কাজিপুর নৌরুটে কোনো নৌকা চলাচল করছে না। ফলে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য এলাকার ব্যবসায়ীদের মালপত্র পরিবহনে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। কাজিপুরের সার ব্যবসায়ী রানা জানান, ঘোড়ারগাড়ী ও ট্্রাকে সার নিয়ে যেতেন বাজারে। এ জন্য নৌপথে তার বস্তাপ্রতি ভাড়া লাগত ১০ টাকা করে। এখন বালুচর পেরিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে বস্তপ্রতি বহন খরচ দিতে হয় ৩০ টাকা। নাটুয়ারপাড়া নৌকার মালিক মুকুল জানান, আগের মতো আর মালপত্র পার হচ্ছে না। সে কারণে আয় কমে গেছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী বলেন, ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের কারণে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানি পলি নিয়ে আর ফিরে যেতে না পারায় এ এলাকার নদীগুলো পলিযুক্ত হয়ে পড়েছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.