গণপরিবহনে যাত্রী কম, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

শর্ত সাপেক্ষে গণপরিবহন চলাচলের ওপর থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। বুধবার সকাল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সবগুলো সিটিতে চলতে শুরু করেছে যাত্রীবাহী বাস। সকাল থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে সড়কে পর্যাপ্ত গণপরিবহন চলাচল করলেও যাত্রী চাপ তেমন একটা নেই। এছাড়া প্রায় সবগুলো বাসেই উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি।
সকাল দশটায় ধানমন্ডি ১৫ নাম্বার বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, নির্দিষ্ট সময় মেনে সিটিং ও লোকাল বাসগুলো চলাচল করলেও যাত্রী তেমন নেই। মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোতে বেশ কিছু যাত্রী দেখা গেলেও তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা চোখে পরেনি। নির্দেশনা অনুযায়ী এসব বাসে কোন ধরণের হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহারও দেখা যায়নি।
এদিকে শহরের ভেতরের সড়কগুলোতে চলাচল করা গণপরিবহনে যাত্রী চাপ কম থাকলেও মূল সড়কের বাসগুলোতে কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙ্গে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতেও দেখা গেছে। আসাদগেট থেকে শ্যামলী যাত্রাপথে প্রজাপতি বাসে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে।

এ সময় অতিরিক্ত যাত্রী বহনের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে ওই গাড়ির হেলপার বলেন, সকাল থেকে দুই ট্রিপ দেওয়ার পরেও তেলের দাম তুলতে পারি নাই এখনো। দুই একজন যাত্রী এক্সট্রা না নিলে আজ গাড়ির জমাও পরিশোধ করা সম্ভব হইবো না। এই অবস্থায় আমরা কি করতে পারি আপনেরাই কন।

বাস চালকেরা মনে করছেন, লকডাউনের কথা শুনে অনেকেই ঢাকা ছেড়েছেন। তাই এসব বাসে আজকে যাত্রী কম।
ঘাটারচর থেকে নারায়নগঞ্জ সাইনবোর্ড রোডে চলাচল করা রজনীগন্ধা বাসের চালক আরমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, লকডাউন যে এত তাড়াতাড়ি খুইলা দিব সেইটা তো কেউ ভাবে নাই। তাই অনেকেই ঢাকা ছাইড়া বাড়ি গেছে। কেউ কেউ অফিস থাইকা এক সপ্তাহের ছুটি নিয়া বাড়ি গেছে। এই কারণে আজ যাত্রী কম। আশা করি আগামী রোববারের মধ্যে আবার আগের মতো যাত্রীচাপ হইব।
স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যাত্রী পরিবহন ও ফাঁকা রাস্তায় ধীর গতিতে পরিবহন চলাচলের কারণে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। ধানমন্ডি থেকে মিডলাইন পরিবহনে কমলাপুরগামী এক যাত্রী ক্ষোভ নিয়ে বলেন, টাকা বেশি নিয়েও কোন ধরণের স্বাস্থ্যবিধি তো মানছেই না পরিবহনগুলো। তার ওপর আবার ধীর গতিতে চলাচল করছে। প্রত্যেকটা স্টপেজে কম করে হলেও দশ মিনিট অপেক্ষা করছে বাসগুলো। বিরক্তির চরম সীমা অতিক্রম হয়ে যাচ্ছে। এত ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করা যায় না।

এছাড়া শাহবাগ, মতিঝিল, পল্টন ও যাত্রাবাড়ী এলাকাতেও চোখে পড়েছে একই চিত্র।পর্যাপ্ত বাস চলাচল করলেও যাত্রী তেমন নেই।
উল্লেখ্য, ক্রমবর্ধমান করোনা সংক্রমন রোধে সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সকল গণপরিহন চলাচল নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপণ জারি করে সরকার। গত সোমবার এই প্রজ্ঞাপণ কার্যকর হওয়ার দুই দিন পরেই সেটা তুলে নিয়ে দেশের সিটিগুলোতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গণপরিহন চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয় আজ বুধবার সকাল থেকে। সকাল ছয়টা থেকে বিকেল সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এসব পরিবহন চলাচল করতে পারবে। তবে, নগরের ভেতর থেকে কোন বাস বাহিরে যেতে পারবে না এবং নগরের বাহিরের কোন বাস ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না বলে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.