কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ কুপি বাতি

২১

ফিরোজ পোদ্দার ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
আধুনিকতার সংস্পর্শে এবং বৈদ্যুতিক যুগে বতর্মানে আহবহমান গ্রামবাংলার এক সময়ের কুপি বাতি কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে। এই কুপি বাতি এখন শুধুই স্নৃতি । কালের বির্বতনে কুপি বাতির স্থান দখল করে নিয়েছে বৈদ্যুতিক বাল্ব, চার্জার, চার্জার ল্যাম্প, চার্জার লাইটসহ আরো অনেক কিছুই । আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে আহবহমান গ্রামবাংলার কুপি বাতি বর্তমান গ্রামবাংলা থেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে । এক সময় গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘর বাড়ি ছোট্ট কুপি বাতির আলোয় আলোকিত হতো । যা এখন খুব কমই চোখে পড়ে । রুপসী-গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা প্রযোজনীয় কুপি বাতি এক প্রকার কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বললেই চলে । অমাবস্যার আধার রাতে মিটি মিটি আলো জ্বালিয়ে গ্রামের মানুষের পথ চলার স্নৃতি এখনো সৃষ্টিশীলদের কাছে টানে।এমন একটা সময় ছিল যখন গ্রামবাংলার জনসাধারণের অন্ধাকারে এক মাএ আলোক বর্তিকার কাজ করতো, কুপি বাতিগুলো ছিল বিভিন্ন ডিজাইনের ও বাহারী রঙের ।

এই কুপিগুলো তৈরি হত কাঁচ, মাটি, লোহা আর পিতল দিয়ে। গ্রামবাংলার মানুষ সামর্থ অনুযায়ী কুপি কিনে ব্যবহার করতেন। বাজারে সাধারনত দুই ধরনের কুপি পাওয়া যেত বড় ও ছোট। বেশি আলোর প্রযোজনে কুপি বাতিগুলো কাঠ এবং মাটির তৈরী গছা অথবা স্টান্ডের উপর রাখা হত। এই গছা অথবা স্টান্ডগুলো ছিল বিভিন্ন ডিজাইনের ও বাহারী নজর কেড়ে নেওয়ার মতো ।

কিন্তু বর্তমানে গ্রামে বিদ্যুতের ছোঁয়ায় কুপি বাতির কদর যেন হারিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকলেও গ্রামবাংলার মানুষ ব্যবহার করছেন সৌর বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন রকমের র্চাজার। রুপসী-গ্রামবাংলা আপামর মানুষের কাছে কুপি বাতির কদর কমে গেলেও আবার কেউ কেউ এই কুপি বাতির স্নৃতি আকড়ে ধরে আছেন। কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র রায়ের বাড়ীতে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে কুপির আলোতে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করতে দেখা যায়।

বড়ভিটা ইউনিয়নের অনেক গ্রামে সৌখিন হিসাবে আজও কুপি বাতির প্রচলন আছে । চন্দ্র-খানা গ্রামের শ্রী হরিবোলা রায়ের বাড়ীতে এখনও এই কুপি বাতির আলো তার ঘরকে আলোকিত করে। তিনি জানান যে,বাহে আমরা গরিব মানুষ টাকা পয়সা নাই তাই সোলার বা সৌর -বিদ্যুৎ কেনার মত সামর্থ নাই । তাই বিদ্যুৎ বা সৌর -বিদ্যুৎ এর যুগে আমরা এখনও এই কুপি বাতি ব্যবহার করছি । অনেকে আবার স্বযত্নে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের নিদর্শন স্বরুপ এটি সংরক্ষণ করে রেখেছেন । কুপি বাতির ব্যবহার ও কদর যে হারে লোপ পাচ্ছে তাতে অদুর ভবিষ্যতে কুপি বাতি শুধু স্নৃতি হয়ে থাকবে। গ্রামবাংলায় কুপি বাতির মত ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন আজ প্রযুক্তির কল্যাণে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.