শীত উপেক্ষা করে আগাম বোরো চাষে ব্যস্ত কয়রার কৃষকরা

 ঃ জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশায় ঘর থেকে বের হওয়াই যেন দায়। তবে শীতের ঘন কুয়াশাকে উপেক্ষা করে জমিতে বোরো ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন খুলনার কয়রার কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ ৫ হাজার বিঘা জমিতে বোরো চাষের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাই কাঙ্খিত ফসল ঘরে তুলতে কৃষকরা এ অঞ্চলের প্রবাদের কথা মাঘের শীত বাঘের গায় এমনটা ভেবে কোমর বেঁধে নেমেছেন। তীব্র শীত ও কয়েকদিন টানা কুয়াশা পড়লেও বড় ধরনের শৈত্যপ্রবাহ না থাকায় এবার কয়রায় কোথাও বোরোর বীজতলা ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ফলে কৃষকদের আপাতত ধানের চারা নিয়ে চিন্তিত হতে হচ্ছে না।
রবিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াশা ঢাকা শীতের সকালে বীজতলায় ধানের চারা পরিচর্যার পাশাপশি জমি চাষের কাজ চলছে পুরোদমে। বাড়ীর পাশে ভিটা, ও নিচু জমিতেসহ আশেপাশের সব ধরনের জমিতে বোরোধান চাষে মেতেছে কৃষকরা। কারন চলতি রোপা আমন ধান কাটা মৌসুমে ধানের মূল্য বেশি থাকায় খুশি কৃষকরা। যে কারনে এবার কোন জমি ফেলে রাখতে চায়না তারা, সেজন্য জমিতে সেচ দিয়ে চাষের কাজে ব্যস্ত কৃষকরা। এছাড়া কোথাও গভীর নলকুপের পানি ব্যহবার করে চলছে সেচ কার্যক্রম। আবার কেউ কেউ নতুন করে বোরো চাষের জন্য দ্রæত গভীর নলকুপ বসাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। একাধীক চাষী জানান, চলতি মৌসুমে ভাল ফলন ও দাম পাওয়ায় উৎসাহ বেড়েছে কৃষককূলে। অন্যদিকে সরকার বাজারে কৃষি উপকরণ অথ্যাৎ সার, বীজের দাম স্বাভাবিক রাখায় বোরো চাষে ব্যয় কমেছে। এচাড়া আবহাওয়া অনুকূলে এবং ধানের মূল্য এমনটা থাকলে তারা বাম্পার ফলনের আশা করছেন।
মহারাজপুর গ্রামের কৃষক প্রভাষক শাহাবাজ আলী বলেন, আমরা প্রাকৃতিক দূর্যোগ প্রবণ এলাকায় বাস করি। যে কারনে ধান চাষ করার ইচ্ছা থাকলেও দূর্যোগের কথা ভেবে পিছে হাঁটি। তবে সবকিছু উপেক্ষা করে এবার বোরো মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেছি। এ বিষয় উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম মিজান মাহমুদ জানান, ধানের দাম ভাল থাকায় বোরো চাষের উৎসাহ বেড়েছে কয়রায়। তিনি বলেন, ব্রি-২৮, ব্রি-৬৭, বিনা-১০ সহ বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করছেন কৃষকরা।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.