বগুড়ায় ঔষধের দোকান ও বাজারে উপচেপড়া ভীড়

২১
আব্দুল ওয়াদুদ :
আগামীকাল সোমবার থেকে দেশব্যাপি লকডাউন। এ কারণে বগুড়ার ঔষধের দোকান ও নিত্যপণ্যের বাজারে মানুষের উপচেপড়া ভীড় পড়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় সবাই বেশি করে কিনে রাখছেন ঔষধ, চাল, ডাল, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য। আজ রবিবার (৪ এপ্রিল) বগুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকাঘুরে এ চিত্র দেখাগেছে । অন্যদিকে নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের চোখে বাসা বেঁধেছে দুঃস্বপ্ন। কেমন কাটবে লকডাউনের দিনগুলো, অজানা ভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে তারাও বাজার করে রাখছেন। সামান্য টাকা হাতে রয়েছে তাদের। তা ফুরিয়ে গেলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। ক্রেতারা আশঙ্কা করছেন, লকডাউন শুরুর পর থেকেই বেড়ে যাবে নিত্যপণ্যে দাম। এছাড়াও সামনে রমজান মাস, সবকিছু ভেবে আগেই প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে রাখছেন তারা।
বগুড়ার শেরপুর উপজেলা ঔষধের দোকান কাচাবাজার ও বগুড়া শহরের কাঁচাবাজারগুলোতে সকাল থেকেই উপড়ে পড়া ভীড় দেখা গেছে। সড়কেও তীব্র যানজট। সকালে শহরের ফতেহ আলী বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা আব্দুল করিম বলেন, ‘লকডাউনের সময় সীমা বৃদ্ধি পেলে নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে যেতে পারে। একারণে সবকিছুই একটু বেশি করে কিনে রাখছি। এছাড়াও রমজান মাসকে সামনে রেখে অনেক বিক্রেতা নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করেন। সবমিলিয়ে ভোগান্তি থেকে বাঁচতে সামর্থ্য অনুযায়ী বাজার করে রাখছি।’
শেরপুর কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী আসাদুল, আজিবর বলেন, লকডাউন ঘোষণার পরপরই বাজারে ক্রেতাদের ভীড় বেড়ে গেছে। অনেকেই নিত্যপণ্য মজুদ রাখতে বেশি বেশি করে বাজার করছেন। কিন্তু বাজারে সবকিছুর দাম এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।
কথা হয় রফিকুললের সঙ্গে তিনি জানান, ‘আমি দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালায়। লকডাউনে কাজ বন্ধ থাকে। রোজগারও হয়না। কিছু টাকা জমানো ছিল, সেখান থেকেই বাজার করছি। তবে লকডাউনের সময় বাড়ানো হলে কীভাবে সংসার চলবে তা জানিনা।’
বাবু বলেন, ‘প্রথম লকডাউনের সময় খুব কষ্টে দিন কেটেছে পরিবার নিয়ে। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়েছি। কোথাও কোনো ধরণের সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। সবাই নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন।’
এদিকে, শহরের সবাই বাজার করতে বাড়ি থেকে বের হওয়ায় সড়কেও দেখা যায় তীব্র যানজট। ফুলতলা এলাকা থেকে শহরের সাতমাথা এলাকার দূরত্ব প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার। রোববার সকালে এতটুকু সড়ক পার হতে সময় লেগেছ প্রায় এক ঘণ্টা। পুরো সড়ক জুড়ে থেমে থেমে চলেছে যাত্রীবাহী যানবাহনগুলো। সড়কে ও বাজারে ভোগান্তি সহ্য করে সবাই নিত্যপণ্য কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। এছাড়াও শহরের সার্কিট হাউজের সামনে দেখা গেছে টিসিবি পণ্য কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। সেখানে শত শত মানুষ টিসিবির ট্রাক ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন।
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় আগামী ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। রোববার (৪ এপ্রিল ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো.শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.