কাজিপুরে শীতের আমেজে ফুটপাতে পিঠা বিক্রির ধুম

১৪

॥ টি এম কামাল ॥ শীতের আমেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কদর বেড়েছে নানা রকমের শীতের পিঠা। পিঠার দোকানগুলোতে ভিড় জমতে শুরু করেছে পিঠা ভক্তরা। কুয়াশাছন্ন হিমেল ঠান্ডা বাতাসে শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। আর শীত এলেই কম-বেশি সব বাজারেই পাওয়া যায় বাহারি পিঠা। তাই এবারের শীতে ভিন্ন ধাঁচে আপনিও বাজার থেকে কিনতে পারেন মজাদার জামাই ভোজন সব পিঠা।
রোববার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মেঘাই, শিমুলদাইড়, সোনামুখী, আলমপুর, ঢেকুরিয়া, হরিনাথপুর, জজিরা, নাটুয়ারাপড়া, রঘুনাথপুর, কুমারয়িাবাড়ী ও সিমান্তবাজারে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমান পিঠার দোকান। এসব দোকানে মূলত ভাপা, চিতই, তেলেরপিঠসহ নানান বাহারী পিঠা বানানো হচ্ছে। প্রতিটি পিঠার দাম ৫-১০ টাকা। সকাল-সন্ধ্যার হিমেল বাতাসে ভাপা পিঠার সুগন্ধি ধোঁয়ার মন আনচান করে ওঠে। সরিষা বা ধনে-পাতা, শুটকি ভর্তা মাখিয়ে চিতই পিঠা মুখে দিলে ঝালে কান গরম হয়ে শীত পালায়। এই পিঠার স্বাদ পেতে রিক্সা-চালক, দিনমজুর, শিশু-কিশোর, ছুটির দিনে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী সব শ্রেণি-পেশার মানুষই পিঠার দোকানে ভিড় করছে।
রাস্তার পাশে এবং মোড়ে মোড়ে দরিদ্র লোকজন এসব ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান দিয়েছেন। পুরুষদের পাশাপাশি অনেক নারীও দোকানে পিঠা বিক্রি করছেন। সংসারে পাশাপাশি তারা বাড়তি আয় করছেন। তবে পিঠা বিক্রেতা বলছেন চালসহ দ্রব্যের মুল্য বৃদ্ধি হলেও পিঠার দাম বাড়েনি।

শিমুলদাইড় বাজারে সোলেমান আলী বলেন, শীতের ঠান্ডা বাতাসে গরম গরম পিঠা খেতে খুব মজা লাগছে। আমি দুইটা খেয়েছি এবং বাড়ীর জন্য ১০টা নিয়ে যাচ্ছি। পিঠা খেতে আসা কলেজ ছাত্র আশরাফুল আলম বলেন, বিকাল হলে চপ, শিঙ্গাড়া, পুড়িসহ টুকটাক কিছু খেতাম। কিন্তু ভাপা পিঠা পাওয়ার পর থেকে আর এগুলো না খেয়ে এখন থেকে পিঠা কিনে খাই। পৌর এলাকার আলমপুর মোড়ের রিক্সা চালক আশাদুল হক বলেন, শীতের মধ্যে রিক্সা চালানো ভুবই কষ্টকর তাই একটি গরম গরম চিতই পিঠা খেয়ে শরীরট গরম করতে চেষ্টা করছি।
সোনামুখী বাজারের দুইজন পিঠা বিক্রেতা বলেন, ১০-১২ ধরে শীতের মৌসুমে আমরা পিঠা বিক্রি করে আসি। নানান ধরণের বাহারী পিঠা আমরা তৈরী করি। সকাল-সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমান দোকান বসিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০-৬০০ টাকার পিঠা বিক্রি করেন। এ থেকে খরচ বাদে ৩০০ টাকা লাভ হয়। আলমপুর বাজারের পিঠা বিক্রেতা আল-আমিন বলেন, আমি গরমের সময় দিনমজুরির কাজ করি। শীতের মৌসুমে পিঠা বিক্রি করি। এতে বাড়তি আয় করে ভাল ভাবে ছেলে-মেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালই আছি।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.