প্রতিদিন পরের বাড়ীতে খেয়ে ক্ষুধার জ্বালা মেটায় অসহায় বিল্লাল

৩৩

ফিরোজ পোদ্দার ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
ফুলবাড়ী উপজেলার বড়োভিটা ইউনিয়নের পশ্চিম ধনীরাম ওয়ার্ডের অনির উদ্দিন (৬০) এর ছেলে মোঃ বিল্লাল হোসেন (মস্তান)(৩৪), সাত বছর বয়স থেকে পরের বাড়ীতে খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন । এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায় বিল্লাল হোসেন একজন ভোজন পিয়াসী মানুষ, অনির উদ্দিন এলাকার নিরীহ গরীব মানুষের মধ্যে একজন, ২ টি গরু আর বাড়ীতে থাকার মতো ৩ টি ঘর ছাড়া সম্বল বলতে আর কিছুই নেই অনির উদ্দিনের ।

এক সময় অনির উদ্দিন পরের বাড়ীতে ১০০-১৫০ টাকায় দিন মজুরের কাজ করে তার ৪ সদস্যের সংসার চালাতো, তবে একদিনও পেটভরে খেতে পারতোনা পরিবারের কেউ, অভাবে অনাদরে দিন কাটতো বিল্লাল ও তার ভাইয়ের । বয়সের ভারে অনির উদ্দিন অসুস্থ হন সংসার পরিচালনায় অক্ষম হয়ে পরলে অল্পবয়সী বিল্লাল ও তার ভাই পরের বাড়ীতে কাজে নিয়োজিত হন । সারাদিনের পরিশ্রমের বিনিময়ে পেতো তিন বেলা খাবার ।

অল্পবয়সে অধিক পরিশ্রমের ফলে ধীরে ধীরে মানুষিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন বিল্লাল, মাএ ১৫ বছর বয়সে কাজের ভারসাম্য হারিয়ে অলসে রুপান্ত হন বিল্লাল । পেটের ক্ষুধা নিবারণের তাগিদে প্রতিবেশিদের দাঁড়ে দাঁড়ে খাবার খোঁজা শুরু করেন তিনি । ধীরে ধীরে পরের বাড়ীতে খাবার খুঁজে আহার করা পেশায় নিয়োজিত হন বিল্লাল।

হিন্দু হোক কিংবা মুসলমানের বিয়ে বাড়ীতে বিল্লালের উপস্থিতি স্বাভাবিক। ফুলবাড়ী উপজেলার যেকোনো জায়গায় কোন রকম খাবারের অনুষ্ঠানের খবর কানে আসলেই বিল্লাল বিনা দাওয়াতে পায়ে হেঁটে সেখানে উপস্হিত হন । এভাবে প্রতিদিন পরের বাড়ীতে খেয়ে বিল্লালের জীবনের মূল্যবান সময় অতিবাহিত হচ্ছে, হয়তো সুচিকিৎসা প্রদান করলে বিল্লালকে সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব ।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.