কাউনিয়ায় তিস্তার জেগে উঠা দিগন্ত জোরা ধু-ধু বালু চরে সবুজের হাতছানি

২৭

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ৪টি ইউনিযনের পাশ দিয়ে প্রবাহিত খর¯্রতা তিস্তার বুকে জেগে উঠেছে বালু ও দোআঁশ মাটির চর। ওই জেগে উঠা ধু-ধু বালু চরে নানান জাতের চাষাবাদ করছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। পুরো চরেই এখন বিভিন্ন ফসলের সবুজের হাতছানি।  সরেজমিনে উপজেলার তালুতশাহবাজ, চরগনাই চর সহ বিভিন্ন চর ঘুরে দেখাগেছে প্রতিটি চরে চলছে বিভিন্ন ফসলের চাষ। কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধা পর্যন্ত চরে কাজ করছে কৃষক কৃষানী। তিস্তা চরের বালু মাটি যেন সাদা সোনায় পরিনত হয়েছে।

বর্তমানে নদীতে পানি কমে যাওয়ায় ও নদী ভিত্তিক জীবিকা নির্বাহকারীরা চরাঞ্চলের পলি ও দোআঁশ মাটিতে চাষাবাদ করে অর্থনৈতিক আলোর মুখ দেখছে। আমন মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে তিস্তা পারের বাসিন্দারা তাদের প্রাণে নতুন করে স্পন্দন ফিরে পেয়েছে। উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপিডাঙ্গা, তালুকশাহবাজ, ঢুসমারা, গদাই চর, পাঞ্জরভাঙ্গা, টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরনশর্মা, বিশ্বনাথ, গনাই, হয়বতখাঁ, আজমখাঁ, শহীদদবাগ ইউনিয়নের প্রাননাথ, হারাগাছ ইউনিয়নের নাজিরদহ চর সহ বিভিন্ন চরে গিয়ে দেখা গেছে, খর¯্রতা তিস্তার জেগে ওঠা ধু-ধু বালু চরে শুধুই সবুজের সমারোহ। চরের পলি ও দোআঁশ মাটিতে চাষ হচ্ছে আলু, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, মিষ্টি কুমড়াসহ নানান জাতের ফসল। কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ফসল পরিচর্যায়। তালুকশাহবাজ চরের খেতে পরিচর্যা করা কৃষক স্বাধীন, ইলিয়াস আলী জানান, চরে মিষ্টি কুমড়া, স্কোয়াস, ভুট্টা, মরিচ, পেঁয়াজ, চাষ করেছি। গত বছর করোনার কারনে মিষ্টি কুমড়ার দাম পাইনি, এবার আশা করছি ভাল দাম পাওয়ার। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে। এই তিস্তা চরে আবাদ করে আমাদের নদীপারের মানুষের সংসার চলে। চাষাবাদের জন্য তেমন কোন জমি নাই, প্রতিবছর নদীতে চর জাগলে চাষাবাদ করি। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সাইফুল আলম জানান, এ উপজেলায় চরাঞ্চলের প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে কুমড়াসহ প্রায় ২২০০ হেক্টর জমিতে নানা জাতের ফসলের চাষ হয়েছে। চরের কৃষকদের কৃষি বিভাগ থেকে ও উপজেলা পরিষদ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ফলন ভালো হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.