গাল্ডেনের ঘাটে পাকা সেতুর অভাবে কাউনিয়ার হারাগাছে ৯ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে

২০

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ কাউনিয়ার হারাগাছ বাংলাবাজার গোল্ডেনের ঘাট মরা তিস্তা নদীর উপর পাকা সেতুর অভাবে ৯ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে। ভোটের আগে পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও বাণিজ্য মন্ত্রী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা আজও আলোর মুখ দেখেনি। ফলে শষ্য ভান্ডার নামে খ্যাত এ এলাকার কৃষি পণ্য পরিবহনে কৃষকদের চরম ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে এবং ফসলের ন্যায মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চীনের দুঃখ হোয়াং হো আর চরাঞ্চলের ৯ গ্রামের মানুষের দুঃখ মরা তিস্তার এ শাখা নদীটি। হারাগাছ পৌর সভা সহ ৪ ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে তিস্তা রেল ও সড়ক সেতু পয়েন্টে গিয়ে মিলিত হয়েছে মরা তিস্তা নদীটি। বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর বাঁশের সাকোই এলাকাবাসীর ভরসা। শুকনা মৌসুমে নদীর বুক চিরে পায়ে হেটে চলাচল করে এলাকাবাসী। হারাগাছ পৌর সভার গোল্ডেনের ঘাট নামক স্থানে পাকা সেতু নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবী এলাকাবাসীর। কথা হয় সাঁকো পারাপারের সাথে জরিত আয়নাল হকের সাথে, তিনি জানান এখানে গোল্ডেন নামে একজন নৌকা দিয়ে মানুষ ও মালামাল পারাপার করতে, তখন থেকে এটির নাম হয়েছে গোল্ডেনের ঘাট। পরবর্তিতে কমিশনার মানিক, সাবেদ আলী ও তাজুলের উদ্যোগে গ্রাম বাসির সহযোগিতায় ২০১৩ সালে নৌকার পরিবর্তে বাঁশের সাঁকো তৈরী করে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় রফিকুল ও মোজাহার জানান, নদী ওই পারে ৫টি বাজার, ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২টি মাদ্রসা রয়েছে। সেতু না থাকায় সাধারন মানুষের যাতায়তে চরম বিপাকে পরতে হয়। শিক্ষক জাহাঙ্গীর ও আইয়ুব আলী জানান পাকা সেতু না থাকায় যানবাহন চলাচল করতে পারে না ফলে জীবনের ঝুকি নিয়ে চলা চল করছে সাধারন মানুষ। ছাত্র রনি ও ছাত্রী মনি জানায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠন গুলোতে যেতে ছাত্র-ছাত্রীদের খুব কষ্ট হয়। সবাই বলে পাকা সেতু হবে কিন্তু হয় না।

আমাদের কষ্ট কেউ দেখে না। কৃষক রফিকুল জানায় পাকা সেতু না থাকায় উৎপাদিত কৃষিপন্য ৪০ থেকে ১০০ টাকা বেশী দিয়ে বহু দুর ঘুরে বাজারে নিতে হয়। মজিবর জানায় ওই স্থানে সেতু না থাকায় রাজপুর ইউপির চিনাতুলি, প্রেমের বাজার, খুনিয়াগাছ ইউপির তালপট্রি, হরিণ চড়া, মিলন বাজার, টাংরীর বাজার হারাগাছ পৌর সভার চরচতুরা, ধুমগাড়া, হারাগাছ ইউপির পল্লীমারী গ্রামের শিক্ষার্থীসহ প্রায় অর্থ লক্ষাধিক মানুষ পৌর সভা ও উপজেলা সদরে যাতায়ত করে। এ গ্রাম গুলোতে আলু, ভুট্রা, ধান, পাট, গম, রসুন, পিঁয়াজ, বাদাম, খিরা, শষা সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। এসব কৃষি পণ্য হাট বাজারে নিতে হলে অনেক রাস্তা ঘুরে বিভিন্ন হাট বাজারে যেতে হয় অথচ গোল্ডেনের ঘাটে পাকা সেতু নির্মাণ হলে অর্ধেক পথ কমে আসবে সেই সাথে এলাকার কৃষকরা পাবে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্যে। বিণিজ্যমন্ত্রী ধুমগাড়ায় একটি সভায় বলেছিলেন তিনি গোল্ডেনের ঘাটে একটি পাকা সেতু নির্মান করে দিবেন, কিন্তু তার আজও বাস্তবায়ন নাই। এলাকার মানুষ নৌকায় পারাপাড়ে দূর্ভোগ কমাতে ২০১৩ সালে বর্ষা মৌসুমে স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে বাঁশ উত্তোলন করে ৩শ’ ১০ হাত লম্বা একটি বাশেঁর সাকো নির্মাণ করে চলাচল শুরু করে। সে সাঁকোটির এখন নরবড়ে অবস্থা। বিড়ি শ্রমিক ঘোটো জানায়, পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, বাণিজ্য মন্ত্রীসহ সবাই এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য ভোটের আগে কথা দিয়ে ছিল। কিন্তু সেতু নির্মাণের কোন আলামত পাওয়া যাচ্ছেনা। ভোট শেষ ব্রীজ নির্মাণ ও শেষ। হারাগাছ পৌর সভার সদ্য নির্বাচিত মেয়র এরশাদুল হক জানান গোল্ডেনের ঘাটে সেতু নির্মাণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্শির কাছে যাবেন তিনি।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.