যমুনায় অপরিকল্পিত নদী খনন বন্ধে কৃষকদের আনন্দোলন

৪৬

রফিকুল ইসলাম রবি, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
যমুনা নদীতে অপরিকল্পিতভাবে কৃষকদের হাজার হাজার একর আবাদি ও ফসলি জমি কেটে নদী খনন এবং শাসন কাজের বিশাল কর্মযজ্ঞ বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক। সভার শুরুতেই রের্কডকৃত ফসলি জমি রক্ষায় ও অপরিকল্পিত নদী খনন এবং শাসন কাজের প্রতিবাদ তীব্র জানান চরাঞ্চলবাসীরা।
আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার গাবসার ইউনিয়নের রুলীপাড়া নৌকাঘাটের মসজিদের সামনে ও চরাঞ্চলের নদী ড্রেজিং এলাকায় এই প্রতিবাদ সভার অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় গাবসারা ও অর্জুনা চরাঞ্চলের ছাত্র, যুবক, কৃষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ। প্রতিবাদ সভা শেষে দুপুরে আবাদি ও ফসলি জমি কাটতে দিব না নামে ও পৈত্তিক সম্পতি রক্ষা নামে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন তারা।

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির, সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন তালুকদার জিন্নাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক মিঞা, আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ আলী আকন্দ, খোরশেদ আলম। এছাড়াও স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, হুরমুজ সরকার, আব্দুস ছালাম, ফজলু মুন্সী, মহর আলী মন্ডল, আমীর আকন্দ প্রমুখসহ অন্যরাও বক্তব্য দেন।
সভায় বক্তারা বলেন, চরাঞ্চলে ফসলি জমিতে অপরিকল্পিতভাবে নদী ড্রেজিং করার পায়তারা চলছ। এতে হাজার হাজার কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যমুনা নদী খননের জন্য ফসলি জমির উপর লাল নিশান লাগিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে আমাদের চরাঞ্চলের কৃষদের বুকের ওপর দিয়ে খনন করার পাঁয়তারায় মেতে উঠেছে অসাধু বালু ব্যবসায়ী দালালরা। যার ফলে হাজার হাজার একর রের্কডকৃত পৈত্তিক আবাদি ও ফসলি জমি এবং বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে পথে বসে যাবে চরাঞ্চলের অসহায় কৃষকরা।
বক্তারা আরও বলেন- আমরা কৃষকরা ন্যায্য দাবিতে আনন্দোলন করে আসছি। আমাদের আনন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে কিছু সুবিধাবাদী-অসাধুচক্রমহল হামলা-মামলার হুঁমকি দিয়ে আসছে। তাদের বলছি, হুঁমকি দিয়ে সাধারণ মানুষদের থামানো যাবে না। চরাঞ্চলের জনগণ নিরহ কৃষকরা কঠোর আআনন্দোলনের মাধ্যমে অপশক্তিকে জবাব দিবে। জমি রক্ষায় ড্রেজিং বন্ধে কৃষকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী চালিয়ে যাবে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষে অবহিত করে বক্তারা বলেন, ভূঞাপুরের গাবসারা, অর্জুনা চরাঞ্চলের ফসলি জমিতে অপরিকল্পিতভাবে নদী শাসন ও ড্রেজিং বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে ড্রেজার দ্রুত সময়ের মধ্যে সরিয়ে নিতে দাবি জানান। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, ভূঞাপুর উপজেলার যমুনা চরাঞ্চলের নদী খনন ও শাসন কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কৃষকরা নদী খনন বন্ধে প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন ও আনন্দোলন করে যাচ্ছে। এ বিষযটি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ জানানো হয়েছে

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.