বগুড়ায় অবৈধ ভাবে করতোয়া নদী ও ভূগর্ভস্থ হতে বালু উত্তোলন, বন্দের দাবিতে মানব বন্ধন

বগুড়া (সদর) প্রতিনিধিঃ  শুক্রবার দুপুরে বগুড়া সদরের শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারায় অবৈধ ভাবে করতোয়া নদী ও ভূগর্ভস্থ হতে বালু উত্তোলন বন্দের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী মানব বন্ধন করেছে। বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা গ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদী থেকে অবৈধ ভাবে ভূগর্ভস্থ ও নদীতে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রবেশ করার এক মাত্র রাস্তা দেবে ভেংগে হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারী ভাবে ভূগর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও অত্র এলাকার প্রভাবশালী বেশ কয়েক জন বালু ব্যবসায়ী অবৈধ ভাবে অবাধে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। ভুক্তভুগী স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জবেদ আলী পাইকাড় জানান, এব্যপারে জেলা প্রশাসক বগুড়া, পুলিশ সুপার বগুড়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বগুড়া সদর, সহকারী কমিশনার (ভুমি) বগুড়া সদর থানা পুলিশের নিকট লিখিত অভিয়োগ দিয়েও কোন কাজ হয়নি।

বালু উত্তোলনকারীরা দম্ভকরে বলেন, আমারা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই বালু উত্তোলন করছি। বগুড়া সদর উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে আবাসন প্রকল্পে আমারা বালু সরবরাহ করছি। মানব বন্ধন আর প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়ে লাভ হবে না।
এ ব্যপারে বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আজিজুর রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা বললে তিনি জানান, অযথা এক জায়গায় অভিযোগ করে লাভ নেই আমার কাছে আসতে হবে। তেলিহারায় বালু উত্তোলনের ব্যাপারে শুনেছি অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভুক্তভগী মানব বন্ধনকারী নাজমুল হুদা জুয়েল বলেন আমি নিজে হাতে বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, তাহার রিসিপ কপি আছে। ক্ষতিগ্রস্থ ভুমির মালিক মোহাম্মাদ আলী, তাজুল ইসলাম, ও সাবেক নৌ কর্মকর্ত মোস্তাফিজার রহমান জানান, বগুড়া সদর উপজেলার ৭নং শেখেরকোলা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড তেলিহারা উত্তর পাড়া গ্রামের পাশর্^দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদী হতে স্থানীয় কিছু বালু ব্যবসায়ী বেশ কিছুদিন হলে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধ ভাবে ভূগর্ভস্থ ও নদী থেকে বালু উত্তোল করছে। এর ফলে নদীর ধারের জমিগুলো ভেঙ্গে দেবে গেছে। সরকারী অর্থায়নে নির্মিত একটি ব্রীজ হুমকির মুখে পড়েছে। ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী একই স্থানে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসির সঙ্গে বালু ব্যবসায়ীদের সংঘর্স হয় এতে নিরীহ কৃষক মোখলেছার রহমান শাহ নিহত হয়। এ ব্যপরে স্থানীয় ইউপি সদস্য এমদাদুল হককে প্রধান আসামী করে ২৫জনের নামে একটি হত্যা মামলা হয় যা এখনও বিচারাধীন আছে। মামলা থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে আসামীরা আবারও বালু উত্তোলন করছে। ভুক্তভুগী এলাকাবাসী জানায় অচিরেই অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে যে কোন সময় আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্স হতে পারে। বালু উত্তোলনের ফলে বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় পরিবেশগত ভারসাম্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি আবাদি জমিসহ আশপাশের গ্রাম, রাস্তা, ঘরবাড়ী হুমকির মুখে পড়লেও অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসির অভিয়োগ ভূমি দস্যুরা প্রকাশ্যে তেলিহারা করতোয়া নদী থেকে বেশ কয়েকটি শ্যালো মেশিন বসিয়ে ড্রেজিং এর মাধ্যমে কয়েক মাস যাবৎ অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।
এব্যারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক কামরুল হাসান ডালিম জানান, আমার ইউনিয়নের কোন জায়গায় বালু তোলার পক্ষে আমি নই। তেলিহারায় বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য প্রশাসনের নিকট যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তাতে আমি এক নম্বরে স্বাক্ষর করেছি। এব্যাপারে ভুক্তভুগি কৃষকরা নিজেদের শেষ সম্বল আবাদি জমি ও বসত বাড়ী টুকু বালু উত্তোলনকারী ভুমি দস্যুদের হাত থেকে রক্ষাকরার জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.