শিক্ষার্থীরা আবেদন করলেই পাবে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা !

২০০

আব্দুল ওয়াদুদ : 
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আবেদন করলেই ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে এমন খবরে বগুড়ার শেরপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে হঠাৎ করেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে প্রত্যয়নপত্রের জন্য শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় শতভাগ উপস্থিতি ঢল লক্ষ করা যাচ্ছে। সেইসাথে কম্পিউটার ও ফটোকপি দোকান গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভীড় পড়েছে। এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যায়নপত্রের জন্য নেওয়া হচ্ছে ১০০শ থেকে ২০০শ টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিতিমালাকে অনুসরণ না করেই টাকার বিনিময়ে গনহারে প্রত্যয়নপত্র দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ১০০শ থেকে ২০০শ টাকা করে প্রত্যয়ন পত্রের জন্য টাকা নিচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিতিমালায় উল্লেখ আছে, গত ১৮ জানুয়ারী সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিবন্ধি, অসহায়, রোগগ্রস্থ্য, গরীব মেধাবী অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুদানের টাকা বিতরণের জন্য অনলাইনে আবেদন পত্র আহব্বান করে। এই আবেদনের তারিখ ২৮ শে ফেব্রুয়ারী শেষ হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তা ৭ ই মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আবেদন করলেই ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে এই খবরে শেরপুর উপজেলার সর্বত্র ছড়িয়ে পরে। কিন্তু সেখানে প্রয়োজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যয়ন পত্র। আর এই প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার জন্য অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখেছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক অনুদানের আবেদনের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে করোনা স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষা করে ভিড় জমিয়ে প্রত্যয়নপত্র নিতে দেখা গেছে। একবারে এতোগুলো প্রত্যয়ন পত্র সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। এ ছাড়া গত ৪ ফেব্রুয়ারী এ বিষয়ে প্রতারণা এড়াতে আরও একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শেরপুর কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী আবু নাঈম বলেন, ‘আবেদন করলেই ১০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে এমন খবরে কলেজে গিয়ে দেখি প্রায় শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়ে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করছে। আমিও প্রত্যয়ন নিয়ে আবেদন করতে এসেছি সার্ভাস ব্যস্ত্য থাকায় এখনো আবেদন করতে পারিনি। টাকা পাবো কিনা তাও জানিনা’। শেরপুর কলেজের ডিগ্রীর ছাত্রী মাহবুবা সুলতানা জানান, আমি শুনেছি করোনা কালিন সময়ের জন্য নাকি সরকার ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা দিচ্ছে তাই আবেদন করতে এসেছি।

হাফিজ কম্পিউটারের স্বত্ত্বাধীকারি হাফিজ বলেন, আমদের নিকট শিক্ষার্থীরা এসে আবেদন করতে বলছে আমরা তাদের নিতিমালা পড়তে বললেও তারা শুনছেনা। আবেদন বাবদ ১০০শ টাকা নেওয়া হচ্ছে আবার কেউ কেউ ২০০শ টাকা নিচ্ছে।

এ বিষয়ে শালফা বিএম কলেজের প্রভাষক সাইফুল ইসলাম বলেন, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা আছে, প্রতিবন্ধি, অসহায়, রোগগ্রস্থ্য, গরীব মেধাবী অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে এই টাকা দেওয়া হবে। কিন্তু এর বাহিরে তারাও আবেদন করছে যারা পাওয়ার যাগ্য নই। তাই প্রকৃত ভাতাভোগীরা আবেদন করতে পারছেনা সার্ভার ব্যস্ত থাকায়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নজমুল হক বলেন, ‘সকলেই ১০ হাজার টাকা পাবে এটি গুজব। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক প্রতিবন্ধি, অসহায়, রোগগ্রস্থ্য, গরীব মেধাবী অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুদান দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত আলী সেখ বলেন, সকলের আবদেন করা ঠিক নয় আগে নিতিমালা ভালো করে পড়তে হবে। আর ‘গুজবের ব্যাপারে আমরা সর্বদা সর্তক অবস্থানে রয়েছি। যদি কেউ গুজবকারীর সন্ধান দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.