জন্মভূমি গ্রাম

২৩

 জন্মভূমি গ্রাম
নাজমুল হাসান পলাশ

এইযে হেথায় ছোট্ট গাঁ ঘুমায় পূর্ব- পশ্চিম,
যার আলো হাওয়ায় বেড়েছি আমি রয়েছে যত ঋণ।
মাঝখানে তার সরু একটি খাল বইছে কুলকুল স্বরে,
দু’তীরে তার বৃক্ষরাজি ভরা ঘর ধরিছে পরস্পরে।
যেথায় নিত্য প্রভাতের নবারুণ উদিয়া পুব গগনে,
ফুটায় পুষ্প বিলায় সুবাস সকল মানব জীবনে।

শ্যাম তরুরাজিতে ঘেরা এ গ্রাম বড়ই শায়া শীতল,
তীব্রদাহে জুড়াই সেথা ক্লান্ত পথিকের তৃষিত জীবন।
রাখাল বালক সকাল-সাঁঝে মাঠে চাড়ায় ধেনুর পাল,
তার বাঁশির সুরে রাখালিয়া গানে দুলিছে আমন ধান।
চারিধারে তার ফসলে ভরা বিস্তৃত মাঠ শ্যামল বরণ ,
তাই না দেখ সদা ভরিত দরিদ্র ক্লিষ্ট কৃষকের মন।
কৃষকের কন্ঠে সদা ধ্বনিত জারি সারি ভাটিয়ালী সুর,
সেই সুরেতে ধুয়েমুছে যেত তাদের দু:খ বেদনা বিধুর।

হল্লা করিয়া সারা পাড়া ফিরিতাম দস্যূ ছেলের দল,
ঘাগরায় সাজিয়া পল্লীবালা চলিত পায়ে দিয়ে আলতা-মল।
রূপ তরঙ্গের ঢেউ তুলে বধূ ভানিত ঢেঁকিতে ধান,
বধূর পায়ের পরশে যেন কাঠের ঢেকিও পেত প্রাণ।
শান্ত গাঁয়ের মধ্য দক্ষিণে শোভিছে মুক্ত খেলার মাঠ
প্রফুল্ল চিত্তে বন্ধু সখাতে মিলে চলিত কত আলাপ।
গোধূলি বেলাতে পশ্চিম দিগন্তে মেঘেরা ধরি বিবিধ বরণ,
তৃপ্ত মনে শ্রান্ত কলেরবে চাষিগণ গৃহে করিত গমণ।
মসজিদ হতে আযান ধ্বনিত মন্দির গীর্জা ঘন্টাস্বর,
ধূপ বিলিয়া প্রদীপ জ্বালিয়া সন্ধ্যা সাজিত কুলবধূগণ।

বর্ষার তোড়ে ভাসিয়া যাইত গ্রীষ্ম কালের উগ্র বিষ,
হেমন্তের গায় হেলান দিয়া রৌদ্র পোহাইত তীব্র শীত।
শরতের রাতে শুভ্রাকাশে জোছনা ছড়াত রূপালী চাঁদ,
কাশবনের ধারে নিশুতি রাতে শোনা যাইত শেয়ালের হাঁক।
অঘ্রাণেতে নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে ভরিত গ্রাম,
পিঠা পুলির মিষ্টি আমেজে জামাই-বধূ পাইত পয়গাম।
কুয়াশার চাদর মিলিয়ে যেত পেয়ে নব বসন্ত বায়,
রিক্ত শাখা রচিত জয় জড়িয়ে তাতে নবীন কিশলয়।
গোলায় ভরা সোনালী ধান সবার পুকুরে মাছের চাষ,
সুখের হাসিতে কিষাণীর গৃহে ঘোষিত নবশিশুর আভাস।

পূর্ণ আমি, গর্বিত আমি ধন্য আমি মায়ের জন্য,
মায়ায় ভরা স্বর্গীয় গ্রামে আমায় দিয়েছেন তিনি জন্ম।
সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা রূপসী অনন্যা এ গ্রামখানি,
সৌন্দর্য অতুল বিকশিত ফুল আমার সাধের পূণ্য জন্মভুমি।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.