শেরপুরে আলুর ভালো দাম ও বাম্পার ফলনে লাভবান কৃষক

২২

আব্দুল ওয়াদুদ :
বগুড়ার শেরপুর উপজেলা আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে সেই সাথে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার আলুর ফলন ভালো হয়েছে। উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের আয়রা, বেলতা, উচরং, মামুরশাহী, বিশালপুর ইউনিয়নের পানিসারা, কুসুম্বী ইউনিয়নের দারুগ্রাম, খুরতা, আমইন, দক্ষিন আমইন, কেল্লা, পোশী, গোন্দইল, বেলঘরিয়া, গাড়ীদহ, জামুর ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আলু চাষে সফল হয়ে আনন্দিত কৃষক। এইসব গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে এখন আলু তোলার কর্মযজ্ঞ চলছে। অনেক চাষী ইতিমধ্যেই আলু তুলে ফেলেছেন। আবার অনেকে আলু তোলার প্রস্তুতি হিসেবে গাছগুলোকে টেনে তুলে ফেলছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার আলুর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। উপজেলায় এবার আলুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিলো ২৬২৫ হেক্টর জমি। কিন্তু আলুর চাষ হয়েছে ২৬৫০ হেক্টর জমিতে। লক্ষমাত্রার চেয়ে ২৫ হেক্টর জমিতে বেশি আলু চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা কৃষি অফিসের পরামর্শে রোগবালাই থেকে জমি সুরক্ষা করেছে। অধিক ফলনশীল জাতের কাটিনা ডায়মন্ড, উফসি ও স্থানীয় জাতের আলু চাষ করেছে। যদিও উপজেলাতে এখনো পুরোদমে জমি থেকে আলু তোলা শুরু হয়নি। তবুও যে কৃষকরা আগাম জাতের আলু চাষ করেছিলেন তারা কিছু কিছু আলু তোলা শুরু করেছেন। আর সপ্তাহ ২ পর থেকে পুরো দমে আলু তোলা শুরু হবে।

তবে চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম থাকায় কৃষকরা প্রতি বিঘায় ১০০ থেকে ১২০ মন আলুর ফলন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে বাজারে আলুর চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় আলু চাষীরা আলু বিক্রির লাভ থেকে কয়েক দফার বন্যায় আমন ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।
এ ব্যাপারে পৌর্শী এলাকার শ্রী অকেন চন্দ্র, অক্ষয় চন্দ্র জানান, আমরা বিঘা প্রতি ৩০ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা খরচ করেছি। আর যারা নিজের বীজে তৈরী করেছে তাদের খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১৩ হাজার টাকা। এবার আলুর ফলন ভালোই হয়েছে। এখন আলুর দাম ভালো আছে তাই আমরা লাভবান হচ্ছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন আক্তার বলেন, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অনেক কৃষক জমিতে আলু চাষে সফল হয়েছে। আলুর ফলন কৃষকদের চোখে মুখে হাসির ঝিলিক ফুটিয়ে তুলেছে। উপজেলার কুসুম্বী ও বিশালপুর ইউনিয়নেও ব্যাপক আলু চাষ করেছে কৃষকরা। চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলুর চাষ করা হয়েছে। আশা করি আলু বিক্রি করে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.