শেরপুরের শিক্ষক যখন দাদন ব্যবসায়ী!

৩০
আব্দুল ওয়াদুদ : 
এনজিও বা বিভিন্ন সমিতি এমনকি ব্যক্তিবিশেষ অধিক মুনাফার লোভে দাদন বা সুদের ব্যবসা করে আসছে। কোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বৈধতা নিয়ে ঋণের অনুকূলে মুনাফা গ্রহণ করে আসলেও অনেক ব্যক্তি অধিক লোভের বশীভূত হয়ে অবৈধ পন্থায় দেদার সুদের কারবার করে আসছে।
সেক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু শ্রেণির শিক্ষকরাও। এমনি দাদন ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার শেরপুরের মাগুড়ারতাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে। সহকারী শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায় খামারকান্দি গ্রামের মৃত বিশ্বম্ভর রায়ের ছেলে। বর্তমানে তিনি শেরপুর পৌরসভার ঘোষপাড়ায় বসবাস করে আসছেন। এদিকে তার দাদন ব্যবসায় সর্বস্বান্ত হয়ে এবং ওই শিক্ষকের দায়ের করা মিথ্যা মামলার হাত থেকে রক্ষা পেতে ১৮ ফেব্রুয়ারি শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন খামারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম-নৈশপ্রহরী নজরুল ইসলাম। তিনি একই গ্রামের মৃত বিরাজ উদ্দিনের ছেলে।
অভিযোগে জানা যায়, দপ্তরি কাম-নৈশপ্রহরী নজরুল ইসলাম তার পারিবারিক প্রয়োজনে ২০১৩ সালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায়ের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ধার নেন। এর বিনিময়ে তাকে বেতনের চেকবই বন্ধক রেখে প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা সুদের অর্থ গুনতে হতো। এভাবে কয়েক বছর চলে আসার পর নিজে সর্বস্বান্ত হওয়ার একপর্যায়ে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে নগদ এক লাখ টাকা ওই শিক্ষককে ফেরত দিয়ে বাকি টাকার জন্য সময় প্রার্থনা করেন।
এদিকে সুদের টাকা না পেয়ে নজরুলের দেয়া ফাঁকা চেকের পাতায় পাঁচ লাখ টাকা লিখে ব্যাংক থেকে ডিজওনার (অযোগ্য) প্রমাণসাপেক্ষে আদালতে মামলা দেয় দাদন ব্যবসায়ী ওই শিক্ষক। এর ফলে ওই দাদন ব্যবসায়ী শিক্ষকের দেয়া মামলা ও ব্যক্তিগত রোষানলে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম।
তাছাড়া ওই দাদন ব্যবসায়ী শিক্ষকের মামলার দায়ভার মাথায় নিয়ে এমনভাবে সুদের চাপে সর্বস্বান্ত হয়ে পথে পথে ঘুরছেন উপজেলার তিরাইল বিশ্বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম-নৈশপ্রহরী রাশেদুল ইসলাম, মহিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আমিনুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন।
ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায়ের কাছ থেকে দুই লাখ ধার চাইলে সে স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেকবই বন্ধক চান। পারিবারিকভাবে টাকার অতিরিক্ত প্রয়োজন হওয়ায় বাধ্য হয়ে তার প্রস্তাবে রাজি হয়। বিনিময়ে প্রতি মাসে চেকের অনুকূলে সুদের সাত হাজার টাকা তিনিই ব্যাংক থেকে উত্তোলন করতেন। এভাবে তিনি কত লাখ টাকা নিয়েছে তার হিসাব করা কঠিন। তারপর আমার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ব্যাপারে ওই নৈশপ্রহরীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা এবং তার বেতনের চেকবই বন্ধক রাখার সত্যতা স্বীকার করে সহকারী শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায় বলেন, নজরুল আমার কাছ থেকে নেয়া বকেয়া এক লাখ টাকা না দেয়ায় পাঁচ লাখ টাকা আদায়ের স্বার্থে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মতিন বলেন, একজন শিক্ষক কীভাবে দাদন ব্যবসা করে মানুষকে ঠকাচ্ছে? এটা কোন নীতি নৈতিকতার মধ্যে পড়ে!
এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.