কাউনিয়ায় সবজি চাষে কৃষকের ভাগ্যের সম্ভবনার দুয়ার খুলেছে

তিস্তার বালুচরে

১৬

সারওয়ার আলম মুকুল,কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি :  রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরিকল্পনায়, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের আর্থীক সহযোগিতায়, ২শতাধিত কৃষকের অক্রান্ত পরিশ্রমে, তিস্তা নদীর জেগে উঠা ধু-ধু বালুচরে কৃষি বিপ্লবের মাধ্যেমে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছে চাষিরা। কৃষক কৃষাণীর হাতের ছোঁয়ায়, কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষি বিভাগের কারিগড়ি সহায়তায় বদলে গেছে চরাঞ্চলের চিত্র। যে তপ্ত বালু চরে হাটা যেতনা, জন্মিত না ঘাস, সেই বালু কে এখন সাদা সোনায় পরিনত করেছে এলাকার কৃষক। বর্তমানে দিগন্ত জুরে শুধু সবুজের হাত ছানি। এই চরে একবার তাকালে আর চোখ ফেরান যায় না। যে কোন প্রকৃতি প্রেমিকে কাছে টানে তালুক শাহবাজ চর সহ বেশ কিছু চরে মিষ্টি কুমড়াসহ নানা ফসলের সবুজের সমারহ। করোনার যে ক্ষতি হয়েছে তা পুশিয়ে নিতে তিস্তার জেগে ওঠা বালুচরে কুমড়া চাষে আর্থিক লাভবান হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন ২শতাধিক চাষী।

কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি চাষে কৃষকের ভাগ্য বদলের হাত ছানি দেখা দেওয়ায় কৃষকেরা উৎফুল্ল। তিস্তার তপ্ত বালুতে মানুষ হাটতে না পারলেও সেই বালুতে প্রযুক্তি নির্ভর হাইব্রিড কাশিহরি, দেবগীরি, কালো পাথড়ী, ব্যাংকক-১ জাতের কুমড়া ও থাইল্যান্ডের স্কোয়াশ সহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে এলাকাবাসী কে তাক লাগিয়ে দিয়েছে তিস্তা পাড়ের চাষীরা। সরেজমিনে তালুক শাহবাজ চরে গিয়ে দেখা গেছে সবুজে সবুজে ভরে গেছে। তিস্তার জেগে উঠা চরে এখন চাষ হচ্ছে আলু, মিষ্টি কুমড়া, স্কোয়াস, ওল কপি, রেটুস পাতা, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, গম, ভুট্ট্রাসহ নানা বাহারী সবজি। শুধু তাই নয় পুরো চরেই যাতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করা যায় সে জন্য শোভা পাচ্ছে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও ইয়োলো স্টিক ট্রাপ এবং প্রাকৃতিক ভাবে পরাগায়নের জন্য মৌ চাক। চরের মনমুগ্ধকর সবুজের সমারোহ যে কোন প্রকৃতি প্রেমিকে কাছে টানে। কুমড়া চাষী স্বাধীন, খালেক, মন্ত, প্রফুল্ল কৃষানি নাজনিন বলেন রাক্ষসী তিস্তার পানি কমে গিয়ে নদীর বুকে জেগে ওঠেছে চর। সেই চরে কৃষি কর্মকর্তা সাইফুর আলম এর দিক নির্দেশনায় ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এমদাদুল হক এর তত্বাবধানে নতুন প্রযুক্তিতে কুমড়া, স্কোয়াস সহ বিভিন্ন ধরনের বিষ মুক্ত সবজি চাষ শুরু করেছি। ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে গর্ত খুরে বীজ রোপণ করেছি। গর্তে প্রয়োজনীয় জৈব সার দিয়ে কয়েকদিন ঢেকে রেখে তিন চারটি করে বীজ রোপণ করেছি। এখন গাছে ডালপালা মেলে ধরে ধরেছে কুমড়া। প্রতিটি গাছে ৭ থেকে ৮টি পর্যন্ত কুমড়া ধরেছে। ১টি করে কুমড়া নিন্মে ৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত ওজন হবে।

তিস্তার চরে সব চাষী মিলে প্রায় ১লাখ ২০ হাজার চারা লাগিয়েছি। একই ধরনের কথা জানালেন কুমড়া চাষী খালেক ও তুহিন, তারা বলেন কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে তারা আশাতীত ফলন পাবেন। কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে তিস্তার চরে প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়েছে। ৫০০ জন চাষীকে কুমড়া চাষে প্রশিক্ষণ ও ২০০জন কে বীজ, সার সহ কারিগরী সহায়তা প্রদান করেছে কৃষি বিভাগ। চরে প্রায় ৩ হাজার টন কুমড়া ও ৪৫ টন স্কোয়াস উৎপাদনের আশা করছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সাইফুল আলম জানান, চরে অনাবাদি জমিকে আবাদের আওতায় আনা, চরের শ্রমজীবি কৃষকের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করনসহ চরাঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থন সৃষ্টি করাই আমার মূল লক্ষ্য। যাদের জমি নেই এমন দরিদ্র কৃষকদের নির্বাচিত করে তাদের কুমড়া চাষে সহায়তা করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ থেকে নিরাপদ সবজি চাষিদের বিশেষ প্রনোদনা প্রদান করা হয়েছে।

নির্বাহী অফিসার মোছাঃ উলফৎ আরা বেগম বলেন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা প্রতি ইঞ্চি জমি আবাদের আওতায় আনা এবং এসডিজি ২নং গোল অনুসারে ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা পরিষদ কৃষি টিম। তিস্তা চরে যে সবজি উৎপাদিত হচ্ছে তা সম্পূর্ন নিরাপদ ও বিষ মুক্ত। ফলে এর বাজার মূল্য বেশী হবে বলে আশা করছি। ইতোমধ্যে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল ওয়াহাব ভুঞা, জেলা প্রশাসক মোঃ আসিব আহসান, কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক ড. সরওয়ারুল হক, উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাগন চরে নিরাপদ সবজি কুমড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.