রেল ষ্টেশন

১৩

রেল ষ্টেশন

নাজমুল হাসান পলাশ

বিকাল হলেই শুক্র শনি রেলষ্টেশনে চলে আসি,
মানুষ-ট্রেনের যাওয়া-আসা দেখতে বড় ভালোবাসি।
কাউন্টার-বুথে ব্যস্ত সবাই নিচ্ছে তাদের টিকেট কিনে,
যাচ্ছে সবাই নিজ গন্তব্যে উজান ভাটির ট্রেনে চড়ে।
কেউবা আসে সকাল সকাল ট্রেন ধরবার আশে,
টিকেট কিনে অধীর আগ্রহে থাকে অলস বসে।
কেউবা আবার হারায় গাড়ি শেষ মিনিটের দোষে,
হতাশ হয়ে উদাস চোখে দিকদ্বিক সে ছোটে।
ইঞ্জিনের ধসধস চাকার ঘড়ঘড় পেটে অজস্র যাত্রী,
পূর্ব-পশ্চিম ছুটে চলে সে নিত্য দিবস রাত্রি।

হকারের দল সাজিয়ে পসরা করছে পণ্যের বিকিকিনি,
বিচিত্র ভাষায় অদ্ভূত ঢঙ্গে নিচ্ছে ক্রেতার মনটা টানি।
ভিক্ষুকেরা সব সমস্বরে আল্লাহ-ভগবান যাচ্ছে ডাকি,
ভিখ মাঙ্গিছে সবার তরে শীর্ণ মলিন হাতটা পাতি।
কুলিদের হাঁকাহাঁকিতে সদা সরগরম পুরো রেলষ্টেশন,
কুলি-মালিকে দর কষাকষি বাগবিতন্ডা চলছে হরদম।
জীবনের এই চলচ্ছবিতে বাস্তবতার করুন গান গাওয়া,
ছাড়া কিংবা পাওয়ার আশায় নিত্য কেবল আসা-যাওয়া।

টিকটিক করে ঘড়িটা যখন সময়ের কথা জানায় আসি,
সংকেত দিতে চালক তখন ভোঁ ভোঁ বাজায় বাঁশি।
প্রহরীর দল দ্বারে দাঁড়িয়ে পতাকা দোলায় অবিরত,
যাত্রীরা সব যে যার মত নির্দিষ্ট স্থানে হচ্ছে গত।
ব্যস্ত সবাই ছোটাছুটিতে তর সহেনা কিছুতেই,
কেহ যায় গন্তব্যের পানে, কেহ বা রয় পিছুতেই।
ঢং ঢং করে ঘন্টা বাজে আসে বিদায়ের ক্ষণটা,
অব্যক্ত ব্যথায় বুকটা ভরে কাঁদে বিরহী মনটা।
কেহবা এসে জানালার ধারে মুখ বাড়িয়ে রয় বসে,
কিছুকাল সে থাকে চোখে তার পরে যায় মুছে।

আসা-যাওয়ার এই যে ছবি বিশ্ব ভুবন জোড়া
দেখে যেতে হয় যে শুধ যায়না আঁকড়ে ধরা।
কালের স্রোতে এক চলে যায় অন্য আসে ফিরে,
চলাচলের এই অমোঘ ধারায় যায় না কেহ হেরে।
সংসারের এই বর্ণিল চলচ্ছবি নিত্য দেখার আশে,
একা এসে বসি যাওয়া-আসা সেই রেলষ্টেশনের পাশে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.