ডিভোর্স ছাড়াই স্বামী-সন্তান ফেলে নাসিরকে বিয়ে করেছেন তামিমা!

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে কেবিন ক্রু তামিমা তাম্মিকে বিয়ে করেছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসির হোসেন। বিবাহের আনন্দঘন সময় কাটতে না কাটতেই তামিমার আগের সংসারের খোঁজ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে পূর্বের বিবাহের খবর। গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি গায়েহলুদ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি হয়েছে বিবাহোত্তর সংবর্ধনাও। এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে আগের স্বামীকে তালাক না দিয়েই নাসিরকে বিয়ে করেছেন স্ত্রী তামিমা তাম্মি।
নাসিরের স্ত্রীর নাম তামিমা তাম্মি। তিনি পেশায় একজন কেবিন ক্রু। কাজ করেন বিদেশি একটি এয়ারলাইন্সে। দুজনের চেনাজানা অনেক আগে থেকেই। গেল বছর সেপ্টেম্বরে ইনস্টাগ্রামে একটি মেয়েকে নিয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন নাসির। যদিও মিনিট দশেক পর পোস্টটা ডিলিটও করে দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তবে বিয়ের খবর ছাপিয়ে নাসিরের স্ত্রীকে জড়িয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু পোস্ট এবং ছবি প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে, এগারো বছর আগে অন্য জায়গায় বিয়ে হয় তামিমার। সেই ঘরে আট বছরের একটি মেয়ে সন্তানও রয়েছে। কিন্তু স্বামীকে তালাক না দিয়েই ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করেছেন তামিমা! নাসিরের স্ত্রী তামিমা তাম্মির এর আগে বিয়ে হয়েছিল রাকিব নামের একজনের সঙ্গে। ১০ বছর আগে রাকিবের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তামিমার। নিকাহনামায় উল্লেখ করা আছে ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ৩ লাখ টাকা দেন মোহরে বিয়ে হয় তাদের।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে মুঠোফোনে রাকিব হাসানকে কল করা হলে তিনি জানান, ডিভোর্স বা কোনো কিছু না জানিয়ে নাসিরকে বিয়ে করেছেন তাঁর স্ত্রী তামিমা। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে শুনলাম নাসির আমার ওয়াইফের হাজব্যান্ড হয়ে গেছে। আমার বউয়ের সঙ্গে ডিভোর্স ছাড়া সে তামিমাকে বিয়ে করেছে। সে (তামিমা) আমাকে এখনো কোনো কাগজ পাঠায়নি। হঠাৎ করে আমি শুনতেছি যে সে বিয়ে করে ফেলেছে। আমার এক বন্ধু বলতেছে, দেখেন তো রাকিব ভাই, তামিমা আপু তো নাসিরকে বিয়ে করে ফেলেছে। আমি নিজেও অবাক হয়েছি। পরে আমি তামিমাকে ফোন দিয়েছি, এসএমএস করেছি, সে কিছুর জবাব দেয়নি। পরে আমি উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি জিডি করেছি।’
জিডি করার পর নাসির ফোন দিয়েছেন রাকিবকে। ওই ফোনের রেকর্ড এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। এ ব্যাপারে রাকিবের ভাষ্য, ‘খবরটি শোনার পর আমি তামিমার বাসায় লোক পাঠাই। কিন্তু তামিমার মা জানান, তিনি নাকি রাকিব নামের কাউকে চেনেন না। পরে তাঁর মা পর্দার আড়ালে গিয়ে নাসিরকে সব জানান। এরপর নাসির কাল দুপুরে আমাকে ফোন দিয়েছেন। তিনি আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আপনি কি চান না তামিমা সুখে থাকুক?’ আমি বুঝলাম না, আমার বউ তাঁর কাছে কেন সুখে থাকবে?’
‘আমি ২০১১ সালে তামিমাকে বিয়ে করেছি। তখন সে মাত্র এসএসসি পাস করে। এরপর আমি তাকে এইচএসসি ও অনার্স শেষ করাই। তার এই চাকরি পাওয়ার জন্যও আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। আমি জানি না সে এটা কীভাবে করল। এখন আমি এই আইনি লড়াইটা চালিয়ে যাব’, যোগ করেন তামিমার প্রথম স্বামী।
এ প্রসঙ্গে নাসিরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মেসেঞ্জারে খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি নাসিরের

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.