ভাই ফিরলোনা ঘরে

১৭

ভাই ফিরলোনা ঘরে
এলাচি আক্তার

সেদিন বায়ান্নর ফেব্রুয়ারি র একুশ তারিখ
প্রতিদিন যেমনি ভোর হয় তেমনি এক মিষ্টি সকাল এলো মোদের দ্বারে।

নিত্যদিনের মতো ই বসলুম খাবার টেবিলে।
আমাদের মা বাবা আর ভাইয়ের কি ছোট্ট সুখের সংসার!

হটাৎ ই ভাই বের হলো একটুখানি তাড়াহুড়ো বেশে।
মা কহিলো কিরে এতো বিষন্ন কেন?
আয়, বস এখানে, খেয়ে নে তবে।

ভাই কহিলো মা আজ খেতে পারবনা যে
কলেজে যেতে হবে আজ যে আমাদের ভীষণ কাজ!

মা কহিলো কি এমন কাজ না খেয়ে ই যাবি?
ভাই বলিলো মাকে জড়ায়ে ধরে
জানো মা!
আজ আমাদের ভাষার মিছিল
তোমার কন্ঠ রুদ্ধ করার প্রতিবাদ মছিল।।

দোয়া করো মা এবার যাই তবে
ফিরেই না হয় খাব তোমার সাথে।

ভাই বেরিয়ে গেলো, যাওয়ার আগে আমার চুলের ঝুটি টা টেনে দিয়ে গেলো।
গেলাম আমি ভীষণ রেগে
বললাম আজ এসো দেখো কি করি তোমারে।

সেদিন ভাষার মিছিল বেরুলো
বুলেট ঝাঁজরা করে দিলো সালাম,রফিক জব্বার সহ অনেকের বুক।

সেদিন আর ভাই ফিরলোনা ঘরে
চিন্তায় মা বাবার সে কি মর মর দশা!!
ভেবেছি ভাই হয়তো শহীদ হয়েছে নয়তো নিখোঁজ হয়েছে।

আর যাইইহোক খোঁজ তো পাবো ই বটে
কিন্তু না!
আজ ও পারিনি জানতে কি হয়েছিলো তার সনে।

ছেলে হারার শোকে মা গেলো ধুকে ধুকে।
বাবা যতোদিন বেঁচে ছিলেন, ততোদিন ই ছিলেন বাকরুদ্ধ বেশে।
তার ছেলের না পেলো হদিস না পেলো লাশ!

আমার অপেক্ষার কথা আর নাইবা বলি
আজ ও প্রতিটা ভোর হয় আমার ভাইয়ের ফেরার পথ পানে চেয়ে।

দু তিন যুগ পার করিলাম কতো আশা করে
কেটেছে কতো শতো নিশি ভাইয়ের লাগি পলাশ ফুলে ডালা সাজায়ে।

আজ এ রাষ্ট্রের কাছে বড় ই অভিযোগ!
কেনো সেদিন যে এগারো ছেলের লাশ পুলিশ ট্রাঙ্কে করে নিয়ে গেলো তাদের পরিচয় জানা হলোনা?
তাদের কি মা বাবা বোন কেউ ছিলোনা?
ছাত্ররা যে পনেরো জনের লাশ মেডিকেলে নিয়ে গেল
তাদের ও কি কেউ ছিলোনা?.
এ জাতি কেনো তাদের পরিচয় গুলা তখন মেলে ধরলোনা?

আমার মা বাবার মতোন কতো মা বাবা ছেলের লাশের আশায় যন্ত্রণায় দিন পেরিয়েছে
কে জানে?
কে রেখেছে খোঁজ?
কে দিয়েছে তাদের সান্ত্বনা??

আজ ও কেন অবমাননা করি এ ভাষাকে
এর মুল্য কি এ জাতি দিতে জানে??

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.