নন্দীগ্রামে ৯৩ হাজার টাকার বেসিন, এখন কাজে আসছে না

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় তিনটি জায়গায় বেসিন নির্মাণ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এখন হাত ধোয়া বেসিনগুলো কাজে আসছে না। বেসিনগুলো অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।
জানা গেছে, করোনা সংক্রমণরোধে মানুষকে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ায় উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলায় ৩ টি বেসিন নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি বেসিনে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩১ হাজার ৩০০ টাকা করে। এই তিনটি বেসিন নির্মাণে মোট ব্যয় হয় ৯৩ হাজার ৯০০ টাকা। বেসিনে দেখা যায়, কোথাও সাবান নেই আবার কোথাও ময়লা জমে আছে। উপজেলা পরিষদের বেসিনে পড়ে আছে ধুলার আবরণ।
করোনার শুরুতে নন্দীগ্রামে ঘটা করে সড়কে বিচিং পাউডার, মাস্ক সরবারহ, খাদ্য সরবারহ’সহ করোনা প্রতিরোধে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়। কিন্তু এখন এসবের ভাটা পড়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধে প্রথম শর্ত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে। এই প্রধান উপকরণ বেসিনগুলো অলস পড়ে আছে। দেশে করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও এসব বেসিনের ব্যবহার কমে গেছে।
উপজেলা পরিষদের প্রবেশপথে হাত না ধুয়ে কেন প্রবেশ করছেন মকছেদ আলী নামের একজনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, বেসিন প্রথম দিকে সবকিছু সচল থাকলেও এখন আর কোনও গুরুত্ব নেই। সেখানে যে হাত ধুবো তাতে তো সাবান নেই। হাত ধুবো কীভাবে ? ফলে বেসিনগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হোসাইন বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে উপজেলায় তিনটি স্থানে হাত ধোয়ার বেসিন নির্মাণ হয়েছে। বেসিনগুলো নির্মাণ করার পর প্রতিটি বেসিনে সাবান সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে দেওয়া হয়। আর বেসিনগুলোতে নিয়মিতই সাবান রাখা হয়। অনেক সময় কাক সাবান নিয়ে যায় আবার কেউ চুরি করে নিয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল বলেন, হাসপাতালের সামনে যে বেসিন রয়েছে, সেখানে নিয়মিত আমাদের হাত ধোয়া হয়। তবে মানুষের মধ্যে এখন হাত ধোয়ার আগ্রহ কমে গেছে। বেসিনগুলো সচল রাখতে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.