তেঁতুলিয়ায় পলিথিন মোড়ানো কুঁড়ে ঘরে মানবেতর জীবন

৫৩

আহসান হাবীব তেতুলিয়া পঞ্চগড় প্রতিনিধি : প্রচন্ড ঠান্ডা, সাথে উত্তরের হিমেল হাওয়া। পরনে হালকা পাতলা জামা, ঠান্ডায় সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। পলিথিন মোড়ানো কুঁড়ে ঘরে ওদের বসবাস। ঠান্ডা বাতাস ছেড়া পলিথিন ভেদ করছে ওই ঘরে। মনে হয় কুঁড়ে ঘরটিতে এসি বসানো হয়েছে। রাতে ছেড়া কাঁথা শাড়ীর আঁচলে দিয়ে ঘুমায় তারা। এ যেন একটু শান্তি, একটু হালকা গরম পরশ, কাটছে এভাবে তাদের দিন।অভাব অনাটন আর এক বুক জ্বালা যেন, ঝেঁকে বসেছে তাদের পরিবারে । শত কষ্টের মাঝেও বেঁচে থাকতে চায় কফিলউদ্দীন( ৭০) ও তার স্ত্রী মোছা:সুফিয়া বেগম। মো:কফিলউদ্দিনের এক মাত্র সন্তান মো:শরিফুল (৩৫)।

সংসারের অভাব অনাটনের কারনে পড়ালেখা করতে পারে নাই। তাই কোন মতে মানুষের বাড়িতে দিন মজুরি দিয়ে, মা,বাবা, বউ সন্তানসহ মোট ৬ সদস্যকে খাওয়ান। শরিফুলের দিনমজুরিই ৬ টি জীবনের একমাত্র বেঁচে থাকার হাতিয়ার। কোন সময় কোন কাজ না থাকলে অনাহারে থাকতে হয় পরিবারের ৬ টি সদস্যকে। কফিল উদ্দিন জানান, আমার কোন সয় সম্পত্তি নেই ৩ শতক জমির উপর কুঁড়ে ঘরে আছি। আর সন্তানের দিনের রোজগারের টাকায়,আমার ওষুধসহ আর কোন মতে সংসার চলে।কফিল উদ্দিন আরো কেঁদে কেঁদে বলেন, আমরা কোন সময় ৩/৪ দিন না খেয়েও দিন কাটাই। কিন্তু কোন ব্যক্তিকে আমাদের কষ্টের কথা বুঝতে দেই না,আর বলেই বা কি লাভ। কোন ইউপি সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যান আমাদের সহযোগিতা করে নাই। মুজুরি দিয়ে আমার পক্ষে ঘর দেওয়া সম্ভব হয় নাই। মুজিব শতবার্ষিকীতে ভুমিহীনদের ঘর বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। কিন্তু সেই ঘর জুটেনি আমার ভাগ্যেই। কনকনে শীত আর ঠান্ডা বাতাস থেকে মুক্তি পেতে শাড়ির আঁচল আর ছেড়া কাঁথা যেন শান্তির পরশ। এ যেন এক মানবেতর জীবন কফিল উদ্দিনের । পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ৫ নং বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের গড়াগছ গ্রামে ওই ব্যক্তির বাড়ি । গত ৩ বছর থেকে বিভিন্ন রোগে শোখে বেঁচে আছে । এমন শীতে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নিয়ে চিন্তায় ভুগছে ওই দম্পতি । দিনে যেমন তেমন সন্ধ্যা হলেই দুরহ জীবন তাদের। শীতের সাথে সারা রাত যুদ্ধ তাদের। ঘরে নেই বেড়া। বেড়ার পরিবর্তে দিয়েছে পলিথিন। তাদের নেই শীত নিবারনের বস্ত্র, নেই কেনার সামর্থ। এক বেলা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে এই দম্পতি।

সহায়সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব। আছে শুধু কুঁড়ে ঘরটি। গত ১৪ ফেব্রুয়ারী রবিবার বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ছেড়া পলিথিন মোড়ানো একটি ছোট্ট ঘর। একটি অস্বাস্থ্যকর ট্রয়লেট। উত্তর পাশে সামান্য দুরে একটি ঘর। বাহিরের ঠান্ডা বাতাস ছেড়া পলিথিন ভেদ করছে।তার ছেলে শরিফুল জানান,এনজিও থেকে ঋন নিয়ে ঘরটি গত ৭/৮ বছর আগে বেঁধেছি।আজ এই অবস্থা মেরামত করার মত কোন টাকা পয়সা নাই। খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে আমার। অন্যের বাড়িতে কাজ করে ৬ টি জীবন আমি চালায়।আমার বাবা শীত সহ্য করতে না পেরে রাতে ছেড়া কাঁথা শাড়ির আঁচলে ঘুমায়। রাতে শীতের যন্ত্রনায় আমার মা বাবার ঘুম হয় না। আমি বিত্তবান ও মানবপ্রেমীসহ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।সরকার আমার বাবাকে একটি ঘর দিলে আমি চির কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.