কাজিপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে বিষমুক্ত সবজি

১৫

টি এম কামাল ॥ দেশব্যাপী যখন বেশি মুনাফার আশায় অতিরিক্ত সার, কীটনাশক ও কৃত্রিম হরমোন প্রয়োগ করে শাকসবজি উৎপাদন করছেন কৃষকরা। ঠিক সেই সময়ে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় রাসায়নিক সার, কৃত্রিম হরমোন ও কিটনাশক ছাড়া সম্পূর্ণ নিরাপদ পদ্ধতিতে বিষমুক্ত শাকসবজি উৎপাদন হচ্ছে। কিছু চাষিকে নিয়ে এই উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি অফিসার।

জানা যায়, বর্তমানে উপজেলার চরগিরিশ, নাটুয়ারপাড়া, মনসুরনগর, খাসরাজবাড়ী, নিশ্চিন্তপুর, সোনামুখী, চালিতাডাঙ্গা, মাইজবাড়ী ও গান্ধাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে বিষমুক্ত পদ্ধতিতে শাকসবজি চাষ হচ্ছে। এই নিরাপদ শাকসবজির দোকান ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে স্থানীয় ভোক্তাদের কাছে। রঘুনাথপুর, মেঘাই, সোনামুখী, চালিতাডাঙ্গা, সিমান্তবাজার, গান্ধাইল, জর্জিরা, ঢেকুরিয়া বাজারে নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে বিষমুক্ত শাকসবজি। হরেকরকম শাকসবজি বিক্রি হচ্ছে এই দোকানে। এ দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ পদ্ধতিতে সবজি চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নিয়ে ইতোমধ্যে অনেকে বিষমুক্ত সবজি চাষ শুরু করেছেন।

সোনামুখী ও রঘুনাথপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আবুল কালাম, সিরাজ, শাহিন আলম নামে দোকানি বিষমুক্ত শাকসবজি বিক্রি করছেন। প্রচলিত বাজার দর থেকে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ২৫ টাকা কেজি, লাল বেগুন ২০ টাকা কেজি, শিম ৩০ টাকা কেজি, টমেটো ৩০ টাকা কেজি, শসা ২৫ টাকা কেজি, বাঁধাকপি ২০ টাকা ও ফুলকপি ১৫ টাকা কেজি। এ ছাড়া লাউ প্রতি কেজি ২০ টাকা, মিস্টি কুমড়া ২০ টাকা কেজি, গোল আলু ২৫ টাকা কেজি, পালৎ ও লাল শাকের আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক ১০ টাকা আটি দরে বিক্রি হচ্ছে। দোকানি আনোয়ার উদ্দিন বলেন, বিষমুক্ত সবজিচাষিদের একটি তালিকা রয়েছে। সে হিসাবে প্রতিদিন চাষিরা ক্ষেত থেকে শাকসবজি নিয়ে আসেন। এই পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচ একটু বেশি হয়। তাই কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে বর্তমান দর সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রেজাউল করিম বলেন, প্রতিটি উপজেলায় অন্তত দু’টি গ্রামকে নিরাপদ ও বিষমুক্ত শাকসবজি উৎপাদনের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ৩১ বছর ধরে নিরাপদ বিষমুক্ত শাকসবজি উৎপাদনের দিকে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে আসছে। তিনি দাবি করেন, সরাসরি কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে বিষমুক্ত শাকসবজি উৎপাদন শুর হয়েছে। রৌহাবাড়ী গ্রামের আমজাদ হোসেন নামে একজন চাষি বলেন, এ বছর ২ বিঘা জমিতে শাকসবজি চাষাবাদ করেছি। অনেক চাষিই এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে আসছিল। চাষিদের আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন তিনি। কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, বিষমুক্ত শাকসবজি উৎপাদন শুরু করেছি। এটি অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.