সারিন্দার সুরে গান গেয়ে সংসার চলে অন্ধ সুনীলের, চান সরকারি সহায়তা

৩৪

ফিরোজ পোদ্দার ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ তিন তারের বাদ্যযন্ত্র সারিন্দা। যন্ত্রের তিন তারে সুর তুলে দরদ ভরা কন্ঠে গান গেয়ে পরিবারের তিন সদস্যের মুখের আহার যোগান দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুনীল(৪০)। ছোটবেলায় বিনা চিকিৎসায় দৃষ্ঠিহারা সুনীল জীবন-জীবিকার তাগিদে হাতে তুলে নিয়েছেন সারিন্দা।সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় গান গেয়ে উপার্জিত টাকায় চলে তার সংসার। ১১ বছরের একমাত্র ছেলে আর বউকে নিয়ে সুনীলের সংসার। অন্ধ সুনীল বলেন – প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা আর গান বাজনা করে যা রোজগার করি তাতে খুব কস্টে দিন যায়। বাপের কোন জমিজমা নাই, মামা বাড়ী করার জন্য ৪ শতক জমি দিয়েছে। টাকার অভাবে ঘর তুলতে পারছি না। শুনেছি যাদের ঘর নাই শেখ হাসিনা তাদের ঘর দিচ্ছে। আমাকেও যদি ঘর দিত তাহলে আমার খুব উপকার হত। আমি অন্ধ সারাজীবন শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করে যেতাম।

আমার স্বামী তো চোখে দেখে না। সে আর কি কাজ করবে? সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় সারিন্দা বাজিয়ে গান গেয়ে যা আয় করে তা দিয়ে কোনমতে বাচ্চটাকে নিয়ে দিন পাড় করছি। তিন জনের সংসারে অন্ধ মানুষটার সামান্য আয়ে একমাত্র ছেলেটাকে ঠিকমতো খাওয়াতে পড়াতে পারিনা। তিনজনের আহার যোগাতে মানুষটা সেই ভোরে সারিন্দা হাতে বের হয়ে যান ফেরেন গভীর রাতে। তারপরেও এমনও দিন যায় ছেলেটার পাতে ভাত দিতে পারলেও তরকারি তুলে দিতে পারি না বলেই -আঁচলে চোখে পানি মুচতে মুচতে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন সুনীলের স্ত্রী।

সুনীলের বসবাস কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের খামারের বাজার সংলগ্ন মামা বাড়ীতে। মামা মনোরঞ্জন রায় বলেন, সুনীলের বয়স যখন তিন বছর তখন সে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়।তার বাবা-মা অভাবের কারণে ঠিকমতো তার চিকিৎসা করতে না পারায় অন্ধ হয় সুনীল। তাদের সীমাহীন কষ্ট দেখে আমি শিশু সুনীলকে আমার বাড়ীতে নিয়ে আসি। আমারও টানাটানির সংসার আমরা সবাই কষ্ট করে সুনীলকে বড় করেছি।তখন থেকেই সে এখানে আছে। ওকে বিয়ে দিয়েছি ভগবানের কৃপায় ওর একটা ছেলেও আছে। ছেলেটার ভবিষ্যতের জন্য একটা বাড়ীর দরকার। আমি তাকে ৪ শতাংশ জমি দিয়েছি।ঘর করে দিতে পারি নাই। গান গেয়ে সুনীল যা আয় রোজগার করে তাতে দুবেলার খাবার যোগানোই কঠিন। তার পক্ষে ঘর তোলা কোনভাবেই সম্ভব না। সরকার যদি সুনীলের ওই ৪ শতক জমিতে ঘরের ব্যবস্থা করে দিত। তাহলে অন্ধ সুনীলের বউ বাচ্চার মাথা গোঁজার ঠাঁই হতো।
প্রতিবেশী বিনোদ রায় বলেন, দৃষ্টি হারা সুনীলের জীবনটায় কোন সুখ পাইলো না।বউ বাচ্চার খাবার জোগাড় করতে ঝর, বৃষ্টি, ঠান্ডা -গরম উপেক্ষা করে গান করে বেড়ায়। অন্ধ সুনীল ও তার বাচ্চার কথা বিবেচনা করে সরকার যদি সুনীলকে ঘর করে দিত তাহলে ওর পরিবারের খুব উপকার হত।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.