তাহিরপুর সীমান্তে চোরাচালান বৃদ্ধি,৩টি ঘোড়াসহ বিড়ি আটক করেছে পুলিশ

১২

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে আবারও জমজমাট হয়ে উঠেছে চোরাচালান বানিজ্য। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩টি ঘোড়া ও নিষিদ্ধ ঘোষিত নাসির উদ্দিন বিড়ির চালন আটক করেছে পুলিশ। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়- গত কয়েকদিন যাবত জেলার তাহিরপুর উপজেলার চাঁনপুর সীমান্তের বারেকটিলা, রাজাই, কড়ইগড়া, চানপুর, নয়াছড়া,পাগলা ছড়া ও পাশর্^বর্তী লাউড়গড় সীমান্তের যাদুকাটা নদী, শাহআরেফিন মোকাম, পুরান লাউড়গড় এলাকা দিয়ে সোর্স আমিনুল ইসলাম, নবীকুল মিয়া, নুরু মিয়া, শহিদ মিয়া ও রফিকুল ইসলাম গং রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে কয়লা, পাথর, মদ, গাঁজা, নাসিরউদ্দিন বিড়ি ও ইয়াবাসহ গরু ও ঘোড়া পাচাঁর করছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৯ই ফেব্রুয়ারী) দুপুরে ভারত থেকে অবৈধ ভাবে ৭টি ঘোড়া ওপেন পাচাঁর করে কাউকান্দি ও আমবাড়ি এলাকা দিয়ে পৃথক ভাবে নিয়ে যাওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পিছলার বিল নামকস্থান থেকে ৩টি ঘোড়া আটক করে। অপরদিকে ১লক্ষ ৪৭হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ নাসিরউদ্দিন বিড়ি আটকের পর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন স্থানে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ। এছাড়াও টেকেরঘাট সীমান্তের রজনীলাইন, বরুঙ্গছড়া, বড়ছড়া, লাকমা ও টেকেরঘাট এলাকা দিয়ে সোর্স ইসহাক মিয়া, কামাল মিয়া, লেংড়া বাবুল ইয়াবা, মদ, গাঁজা ও কয়লা পাচাঁর করছে। পাশর্^বর্তী বালিয়াঘাট সীমান্তের লাকমা, লালঘাট এলাকা দিয়ে সোর্স ইয়াবা কালাম মদ, গাঁজা, ইয়াবা, কাঠ, কয়লা পাঁচার করছে। চারাগাঁও সীমান্তের লালঘাট, বাঁশতলা, চারাগাঁও এলসি পয়েন্ট এলাকা দিয়ে সোর্স শফিকুল ইসলাম ভৈরব ও রমজান মিয়া ভারত থেকে কয়লা, চাল, মদ, গাঁজা, ইয়াবা পাচাঁর করছে।

গত সোমবার (৮ই ফেব্রয়ারী) রাতে সোর্স পরিচয়ধারী শফিকুল ইসলাম ভৈরব, নজরুল মিয়া ও রমজান মিয়াগং চারাগাঁও এলসি পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে ২০০বস্তা (১১ মে.টন) কয়লা পাচাঁর করার পর ২টি ট্রলিসহ আটক করেছে বিজিবি। কিন্তু সোর্সদেরকে গ্রেপ্তার করেনি। সম্প্রতি লাউড়গড় সীমান্তের যাদুকাটা নদী দিয়ে রাজস্ব বিহীন অবৈধ কয়লা পাচাঁর নিয়ে বিজিবি ও সোর্স পরিচয়ধারী চোরাচালানীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলাগুলি হয়। এঘটনার প্রেক্ষিতে গ্রাম্য সালিশ ও থানায় মামলা হয়েছে।
এব্যাপারে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ তরফদার বলেন- আটককৃত ঘোড়াগুলোর মালিক খোঁজে বের করার চেষ্টা চলছে আর অবৈধ নাসিরউদ্দিন বিড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আগুনে পুড়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.