সকালে ভাত খেয়ে পুরো পরিবার হাসপাতালে, রাতে দুর্ধর্ষ চুরি

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : 
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের দল ওই দুই বাড়ি থেকে ৩১ ভরি স্বর্ণালংকার, ২৪ ভরি রূপার গহনা, নগদ ১২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে। এরমধ্যে এক বাড়িতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় লুবনা আক্তার নামের এক নারী মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এখনও গ্রেফতার হয়নি কেউ।
রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের স্বল্পমহেড়া গ্রামের চান মিয়া ও মারুফের বাড়িতে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বল্পমহেড়া গ্রামের চান মিয়া, স্ত্রী নুরুন্নাহার, মেয়ে লিজা আক্তার ও ছেলে আব্দুল্লাহ রোববার সকালে রান্না করা মাছের তরকারি, আলু ও বেগুন ভর্তা দিয়ে ভাত খায়। এর কিছুক্ষণ পর তারা সবাই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে একইদিন রাতে চোরের দল তাদের বাড়িতে ঢুকে ২২ ভরি স্বর্ণালংকার, ২৪ ভরি রুপার গহনা এবং নগদ ১০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। একই রাতে চোরের দল পাশের বাড়িতে হানা দেয়। সেখান থেকে তারা ৯ ভরি স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও নগদ ২ লাখ টাকা লুট করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লিজা আক্তার ও আব্দুল্লাহ বলেন, কে বা কারা আমাদের বাড়িতে গিয়ে খাবারে চেতনানাশক ওষুধ দিয়েছেন তা আমরা জানি না। তবে বিষয়টি পরিকল্পিত। ১৭ বছর আগে একইভাবে তাদের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছিল বলেও তারা জানান।
মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া জানান, চোরের দল পরিকল্পিতভাবে পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফয়েজ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ওই বাড়ি দুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.