সেই দিন

১৭

*** সেই দিন ***
-নাজমুল হাসান পলাশ।

সেই দিন,
সেই প্রথম যৌবন কালে
দেখা হল তোমাতে আমাতে
শুভ্র প্রভাতে নির্জন বকুলতলে।
শিশির ভেজা ঝরা ফুলে
ভরছিলে ডালা আপন মনে
আমার পায়ের চলার স্বরে
হঠাৎ চাইলে নয়ন তুলে।

সেই সলজ বিলোল নয়নদু’টি
সুধা মাখা মিষ্টি হাসি
আলুলিত চিকন কেশ রাশি
কাড়িল হৃদয় এক ঝ্বটিকায়।
লাবণ্যেভরা চারু দেহ খানি
সুললিত কণ্ঠের সুধা-বাণী
অতুলিত বিমল রূপ রাশি
ভাসালো মোরে প্রেম যমুনায়।

হল কথা নয়নে নয়নে
ঢালিল মদিরা মরূ জীবনে
সাদরে কোমল কণ্ঠ জড়িয়ে
করিলে মোরে প্রেম নিবেদন।
শূন্য করিয়া ফুলের ডালা
গাথিয়া ছোট্ট বকুল মালা
প্রেম সম্ভাষণের মধুর ধারা
জড়ালে গলে করিলে বরণ।

আমি তখন একটু সরি
দাঁড়ালেম তোমার পাশটি ধরি
সাধের গোলাপ আর চাপাকলি
গুঁজেছিনু তোমার কবরী-কুসুমে।
তুমি আরো কাছে আসি
ধরলে হাতে দিয়ে হাসি
কর্ণ মূলে মুখটা আনি
প্রেম সুধা দিলে ঢালি।

সেই দিন,
সেই বিকালের নির্জন ক্ষণে
দুজন দুজনার হাতটি ধরে
নীল সরসীর সোপান ‘পরে
বসেছিনু মধুর প্রেম-আলিঙ্গনে।
গোধূলীর শান্ত নীল অম্বরে
রাঙারবি ডুবিল হেলেদুলে
বকুল শাখের আড়াল হতে
ডাকিল কোকিল কুহু স্বরে।

তুমি তখন আলতো করে
বুকের উপর পড়লে ঝরে
কম্পিত উম্মুখ অধর তলে
মধুর চুম্বন দিলে আঁকি।
সেই প্রথম সুখের প্রেম-মিলনে
স্বর্গ রচিল ধরার কোণে
আশা ভালোবাসা জাগল মনে

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.