ধুনটে দ্বিতীয় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী ও সতীন

১৭

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি :
শ্বশুর বাড়ি থেকে জমি বিক্রি করে টাকা এনে না দেওয়ায় বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আনার কলি (৩৩) নামে এক গৃহবধূকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী মোজাম্মেল হক ও সতীনের বিরুদ্ধে। নিহত আনার কলি উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের ঈশ্বরঘাট গ্রামের মোজাম্মেল হকের স্ত্রী। সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় দাফনের প্রস্তুতিকালে স্বামীর বাড়ি থেকে আনার কলির মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এরআগে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাত প্রায় ৩টায় আনার কলির মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, উপজেলার ঈশ্বরঘাট গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের মেয়ে আনার কলির পারিবারিক সম্মতিতে একই গ্রামের এক যুবকের সাথে বিয়ে হয়। সেখানে ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের সুখেই ছিল আনার কলি। এরই মাঝে নানা প্রলোভন দিয়ে আনার কলির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে প্রতিবেশী অটোরিকশা চালক মোজাম্মেল হক। এ ঘটনা জানাজানি হলে আগের স্বামীর সাথে আনার কলির বিচ্ছদ ঘটে। এ অবস্থায় ২০১৮ সালের মে মাসে আনার কলিকে বিয়ে করেন মোজাম্মেল হক। তবে মোজাম্মেল হকের আগের পক্ষের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর দ্বিতীয় স্ত্রী আনার কলিকে বাবার বাড়ি থেকে জমি বিক্রি করে টাকা এনে দেওয়ার চাপ দেয় মোজাম্মেল হক। কিন্ত এতে রাজি হয়নি আনার কলি। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে আনার কলিকে হত্যার পরিকল্পনা করে মোজাম্মেল হক ও তার প্রথম স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন।

এক পর্যায়ে শনিবার দুপুরের দিকে মোজাম্মেল হক ও তার প্রথম স্ত্রী নিজ বাড়িতে মিষ্টির সাথে বিষ মিশিয়ে কৌশলে আনার কলিকে খায়ানো হয়। তখন আনার কলি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ষে ভর্তি করে মোজাম্মেল হক। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আনার কলির মৃত্যুর বিষয়টি তার স্বাজনদের না জানিয়ে গোপনে দাফনের প্রস্তুতি নেয় মোজাম্মেল হক। এ বিষয়টি জানার পর আনার কলির ভাই আব্দুস ছোবাহান পুলিশকে জানায়। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, আমার স্ত্রী মিষ্টি খেয়ে ডায়রীয়া রোগে আক্রন্ত হয়। আনার কলি বমি ও পাতলা পায়খানা করে অচেতন হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ মিথ্যা।

ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল জাব্বার বলেন, আনার কলির স্বামীর বর্ণনা অনুযায়ী ডায়রীয়া রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, আনার কলির মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার তদন্ত প্রতিবেদন ও ময়না তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.