ভূঞাপুরে ইউএনও’র কাছে ক্ষমা চেয়েও দিনমজুর স্বামীকে ছাড়াতে পারেনি স্ত্রী!

রফিকুল ইসলাম রবি, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
কাজ শেষে সন্ধ্যার আগেই বাড়িতে চাল-ডালসহ কাঁচা বাজার করে আসার কথা ছিল। কিন্তু বিকেলেই তাকে ইউএনও ম্যাডাম ধরে নিয়ে গেছে। এ খবর পেয়ে রাতেই ছোট মেয়েকে নিয়ে ইউএনও অফিসে গিয়ে ম্যাডামকে অনূনয় বিনয় করলেও তিনি ক্ষমা করেননি। উল্টো জরিমানার ৫০ হাজার টাকা দিতে বলেন। পরে টাকা দিতে না পারায় তাকে জেলে পাঠিয়ে দেন ইউএনও ম্যাডাম। পরদিন থেকেই অভাবী পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় সন্তানদের নিয়ে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছি।
কান্নাজর্জরিত কণ্ঠে কথাগুলো বলছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের স্থলকাশি গ্রামের আলী আজগর (৪৫) এর স্ত্রী মোছা. চায়না বেগম। আজগর আনছের মন্ডলের ছেলে। এদিকে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির জেল হওয়ায় অর্ধাহারে দিন কাটছে দন্ডপ্রাপ্ত আজগর আলীর পরিবারের।

সম্প্রতি গত রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে যমুনা নদী থেকে নৌকায় বালু তোলার সময় উপজেলার কোনাবাড়ি এলাকা এলাকা থেকে আলী আজগর নামের ওই দিনমজুরকে আটক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ইশরাত জাহান। পরে রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৭দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন তিনি।
জানা গেছে, উপজেলার গাবসারার চরাঞ্চলের বাসিন্দা আজগর আলীর ঘরবাড়ি যমুনা নদীর গর্ভে চলে যাওয়ায় পরবর্তিতে গোবিন্দাসী ইউনিয়নের স্থলকাশি এলাকায় অন্যের জায়গায় তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। জীবিকার তাগিদে দিনমুজুর হিসেবে যমুনা নদীতে বালু উত্তোলনের কাজ করেন। এতে তিনি যে টাকা পান তাতেই সংসার চলাতে হিমশিম খেতে হয়। একদিন কাজে না গেলে না খেয়ে থাকতে হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান বলেন- ‘যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে তাকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে তাকে ৫০ হাজার জরিমানা অনাদায়ে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়াও রাতেই তার স্ত্রীর হাতে শীতবস্ত্র ও ত্রাণ দেয়া হয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.