কিশোরগঞ্জে স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার পর মাকেও হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নজরুল ইসলামকে (২৯) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে নিহতের পরিবারকে দেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার সকালে আসামির উপস্থিতিতে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডেদণ্ডিত নজরুল ইসলাম পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের পাবদা গ্রামের সোহরাব উদ্দিনের ছেলে।

এ ঘটনায় নিহতরা হলেন রহিমা খাতুন (২৭) ও তার ৫৫ দিনের শিশু সন্তান আমিরুল। রহিমা খাতুন একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। তিনি একই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর।
মামলার বিবরণে জানা যায়, রহিমা খাতুনের প্রতিবন্ধীতার সুযোগে তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন নজরুল। সালিশে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিতও হয়। সালিশে টাকা-পয়সা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হলেও পরে ২০১৬ সালের ১৯ নভেম্বর কিশোরগঞ্জের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন রহিমা। সন্তান জন্মের পর নজরুলের ওপর রহিমাকে বিয়ের চাপ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে শিশুটিকে পথের কাঁটা ভেবে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে নজরুল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৭ সালের ১৩ জানুয়ারি রহিমা খাতুন ও তার শিশু আমিরুলকে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নজরুল বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। রাত ৮টার দিকে আঙ্গিয়াদি মীরের টেক আতার বাড়ি কালভার্টের ওপর নিয়ে শিশুটিকে বিলের পানিতে ফেলে দেন নজরুল। পরে বিলের পানিতে রহিমাকে ডুবিয়ে মারেন নজরুল। হত্যাকাণ্ডের আট দিন পর ২১ জানুয়ারি মিরারটেক গুদি বিল থেকে গলিত অবস্থায় রহিমা খাতুনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ২২ জানুয়ারি এই ঘটনায় নিহত রহিমার বড় ভাই আবদুল আউয়াল হত্যা ও গুমের অভিযোগ এনে নজরুল ইসলাম, তার ছোট ভাই দ্বীন ইসলাম (১৮), বাবা সোহরাব উদ্দিন ও মা মদিনা খাতুনকে আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

রহিমা খাতুনের লাশ উদ্ধারের ১০ দিন পর ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় একই জায়গায় থেকে শিশু আমিরুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে ফেনী জেলার দাগনভূঞার শ্রীরামপুর এলাকার একটি বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় নজরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পরের দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে জোড়া খুনের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন নজরুল।
মামলাটি প্রথমে পাকুন্দিয়া থানার আহুতিয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মতিউর রহমান পরে তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো: শাহাব উদ্দিন তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে মামলার চার আসামির মধ্যে তিনজনকে অব্যাহতি দিয়ে একমাত্র নজরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি অ্যাডভোকেট যজ্ঞেশ্বর রায় চৌধুরী এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট অশোক সরকার মামলাটি পরিচালনা করেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.