বগুড়ায় যমুনার পাড়ে পোষাক কারখানা, ঘুচবে বেকারত্ব

১০২

পাভেল, সারিয়াকান্দি প্রতিনিধি : 
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর পাশে কড়িতলা এলাকায় ছোট একটি পোষাক কারখানা। বাইরে থেকে একতালে বেজে চলছে মেশিনের চাকা ঘোরার শব্দ শোনা যায়। কারখানায় ঢুকে চোখে পড়ে কয়েক সারি সেলাই মেশিন। সেগুলোতে কাজ করছেন একদল নারী-পুরুষ। যমুনা নদীর পাড়ের এমনি এক পরিবেশে পোষাক কারখানা গড়ে ওঠায় অসহায়, হতদরিদ্র বেকার শ্রমিকদের জীবনে আশার আলো দানা বেঁধেছে।

যমুনা পাড়ের বাসিন্দা প্রবাসী এক ব্যক্তির হাতে গড়ে উঠেছে এই পোষাক কারখানা। এর মধ্যে এলাকার প্রায় ১৮ জন শ্রমিক কাজ করছে কারখানায়। নতুন এ উদ্যোক্তা জানিয়েছেন শিগগির স্থানীয় আরও নারী-পুরুষদের এ কাজে সম্পৃক্ত করবেন।
জানা যায়, ভিএম গার্মেন্টস এন্ড হোসিয়ারি নামে এ প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের কড়িতলা এলাকায় অবস্থিত। উদ্যোক্তার নাম মো. আপেল মাহমুদ। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন মো. শফিউল আলম। তিনি দীর্ঘদিন মালয়শিয়ায় ছিলেন। কাজ করেছেন পোষাক কারখানায়। ২০১৮ সালে দেশে চলে আসেন। পরিকল্পনা ছিল নদী ভাঙ্গনে বিধ্বস্ত নিজের এলাকার মানুষদের নিয়ে কিছু করার। কিন্তু করোনাভাইরাস বাধ সাধে।

প্রতিষ্ঠানের মালিক জানান, গত বছরের শেষের দিকে সাড়ে ১০ লাখ টাকা মূলধন নিয়ে কড়িতলায় কারখানাটি গড়ে তোলা হয়। এখানে বসানো হয় ১৮টি মেশিন। কারখানায় কাজ করছেন স্থানীয় ১৭ জন নারী এবং একজন পুরুষ। এই দুই মাসে কারখানায় তৈরি হয়েছে বড়দের গেঞ্জি, র্টি শার্ট, ট্রাউজার, ছোটদের বাহারি পোশাক। এরই মধ্যে দুই চালান তৈরি পোষাক সরবরাহ করা হয়েছে। এসব তৈরি পোষাক যাচ্ছে ঢাকার ইসলামপুরে।

বাড়ির পাশে কারখানায় কাজ করে স্থানীয়রা খুব উৎসাহী। এখানে কাজ করে নিজেদের স্বাবলম্বী করার পথ দেখছেন তারা।
কাজের ফাঁকে কথা হয় এমনই এক নারী শ্রমিক সেলাই মেশিন অপারেটর শ্রীমতি মায়া রানীর (২৮) সাথে। উপজেলার বয়রাকান্দি গ্রামে তার বাড়ি। মায়া বলেন, তিন বার যমুনা নদী ভাঙ্গনের পর ওই গ্রামের বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। অসুস্থতার কারণে তার স্বামী দীর্ঘদিন কর্ম থেকে বিরত আছেন। এমন সময়ে পোষাক কারখানায় কাজ পেয়ে খুশি। মাস শেষে ৫ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন। ছেলে-মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকব ভাবতে ভাল লাগছে আমার।
কাজলী আকতার (২৮) নামে আরেক পোষাক কর্মী জানান, ঢাকার সাভার ডিইপিজেডে প্রায় ৪ বছর একটি পোষাক কারখানায় কাজ করেছেন। করোনা মহামারির কারণে চাকরি হারিয়ে সাত মাস হলো বাড়িতে রয়েছেন। দুই ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে কষ্টে চলছে সংসার। এ পোষাক কারখানায় মেশিন অপারেটরের চাকরি পেয়ে দুঃখের দিন শেষ হয়েছে বলে জানান কাজলী।

একই অনুভূতি উপজেলার সুতোনারা গ্রামের শারমিন আকতার(২৬) যমুনা পাড়া গ্রামের নারছিন সুলতানা(৩৪), চন্দনবাইশা গ্রামের শাকিলা বেগমের (২৫)। তাদের ভাষ্য, বাড়িতে থেকে এরকম একটি পোষাক কারখানায় কাজের সুযোগ পাওয়ায় নিজেদের আর্থিকভাবে সচ্ছল করে নিতে পারবেন।
কড়িতলা গ্রামের বাসিন্দা কারখানার কাটার মাস্টার বেলাল হোসেন (৫০) বলেন, ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকবো পাশাপাশি ছেলে-মেয়েকে স্কুলে লেখাপড়া করানোর সুযোগ পাব। এটা আমাদের জন্য খুবই ভাল।
ভিএম গার্মেন্টসের মালিক মো. আপেল মাহমুদ বলেন, আমি দীর্ঘদিন মালেশিয়ায় থাকায় ওই দেশের উন্নত কলকারখানার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। দক্ষ, অদক্ষ পুরুষ-মহিলা কর্মীদের বেকারত্ব দূর করার জন্য নদী বিধ্বস্ত এ এলাকাকে বেছে নিয়েছি। ইচ্ছা আছে খুব শিগগির শ্রমিকের সংখ্যা অর্ধশতাধিকে নিয়ে যাব। এতে উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সব মহলের আমরা ভাল সারা পাচ্ছি। আমরা ঢাকা থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করার পর ঢাকার ইসলামপুরে তৈরি পোষাকের বাজারে বিক্রি করছি। এছাড়াও আর্ন্তজাতিক মানের পোষাক প্রস্তুত করে বিদেশি বাজার দখল করার জন্য চেষ্টা করছি। আমরা সফলতা পাব আশা করছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাসেল মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন নদীর বিধ্বস্ত এলাকায় পোষাক কারখানা গড়ে উঠেছে জেনে আমার খুবই ভাল লাগছে। আশা করছি তারা দক্ষতার সাথে কারখানা পরিচালনা করে উপজেলায় অনেক গরীব, অসহায় নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ পাবেন। তারা আমার কাছ থেকে কোন সহযোগিতা চাইলে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.