পরীমনি খুব উড়ছেন

আজকাল খুব উড়ছেন পরী! গেলো বছরের শেষ আর চলে বছরের শুরুটা বুঝি মনিময় ঢালিউড।
চয়নিকা চৌধুরীর প্রথম সিনেমা ‌‘বিশ্বসুন্দরী’ দিয়ে গেলো বছর হ্যাপি এন্ডিং করে নতুন বছরের রাজকীয় শুরুটা হলো তৌকীর আহমেদের ‘স্ফুলিঙ্গ’ দিয়ে! এরমধ্যেই যুক্ত হলেন রাশিদ পলাশ ঐতিহাসিক ছবি ‘প্রীতিলতা’ আর ইফতেখার শুভর ‘মুখোশ’ ইউনিটে। তার সাম্প্রতিক ৪টি ছবিই যেকোনও অভিনেত্রীর জন্য ঈর্ষণীয়।
সম্ভবত পরী নিজেও সেটি টের পেয়েছেন মহামারি পেরিয়ে নতুন বছরে পা ফেলে! কারণ, বিরামহীন উড়ছেন- শুটিংয়ের কাজে। অথচ তার একটাই বদনাম ছিল- কুইন অব শিডিউল মিসিং!

এসব অপবাদের দিন বুঝি ফুরালো। বদলে গেছেন পরীমনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢালিউডে পরীমনির চেয়ে ডেডিকেটেড অভিনেত্রী আপাতত আর একজনও নেই। যেমন টানা ১০ দিন সিলেট অঞ্চলে ‘মুখোশ’ ছবির শুটিং করে ক্লান্ত-শ্রান্ত পরী ঢুলুঢুলু চোখে ঢাকায় ফিরেছেন বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে।
দম ফেলার সুযোগ বৃহস্পতিবার দিনটুকুই ছিল। কারণ, আজ (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরেই ধরতে হবে ফের সিলেটের উড়োজাহাজ।
পরী জানান, ‌‘বিশ্বসুন্দরী’ মুক্তির পর বিরতিহীনভাবে চলেছে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে। তার সঙ্গে আজ (শুক্রবার) থেকে প্রদর্শন শুরু হচ্ছে জেলা শহরগুলোর মিলনায়তনে।

এই উদ্যোগের শুরুটা হচ্ছে সিলেটের শাহী ঈদগাহে অবস্থিত জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে। বিকাল ৩টা ও সন্ধ্যা ৬টা এবং শনিবার বিকাল ৩টা, ৫টা এবং সন্ধ্যা ৭টায় দর্শনীর বিনিময়ে দেখানো হবে সিনেমাটি।
আর এমন একটি অসাধারণ উদ্যোগের সঙ্গে পরী হাজিরা থাকবেন না! কারণ, সিনেমার অনেক নামজাদা তারকার মতো- শুটিং শেষ তো শিডিউলও শেষ; এমন নীতিতে চলেন না এই অভিনেত্রী।
পরীমনির ভাষায়, ‘‘যে চলচ্চিত্রকে আমি বিশ্বাস করি, সেটার সাথে আমি শেষ পর্যন্ত থাকতে চাই। সেটি হিট না ফ্লপ- আমি বিবেচনা করি না। আর ‘বিশ্বসুন্দরী’-তো মহামারির অন্ধকার বছরে আলো ছড়িয়েছে সবার মনে। টানা ৯টা সপ্তাহ এই ছবিটি মানুষ দেখছেন। এটার সঙ্গে তো আমি থাকবোই। কষ্ট হলেও আমি আজ শুক্রবার সিলেটে যাচ্ছি। প্রয়োজনে অন্য জেলাতেও যাবো।’’

সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেডের প্রযোজনায় ‘বিশ্বসুন্দরী’ চলচ্চিত্রের কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন রুম্মান রশীদ খান। এতে পরীমনির বিপরীতে অভিনয় করেছেন সিয়াম।
পরীমনি এরমধ্যে শেষ করে রেখেছেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ অবলম্বনে ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’। আবু রায়হান জুয়েলের পরিচালনায় বিশেষ এই শিশুতোষ ছবিতেও পরীর বিপরীতে আছেন সিয়াম আহমেদ।
চুক্তিবদ্ধ হয়ে আছেন শফিক হাসানের ‘দ্য অ্যাডভাইজার’ ছবির জন্য। এরমধ্যে শেষ করেছেন প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘পাফ ড্যাডি’। বিশ্বাস করেন, এই কাজগুলো তাকে বাঁচিয়ে রাখবে অনেক দিন। জোগাবে বাঁচার ইচ্ছাও।
পরীমনি বলেন, ‘‘মূলত ‘স্বপ্নজাল’ থেকে আমার ভেতরে এই পরিবর্তন এসেছে। আমি সারাক্ষণ ভালো গল্প আর চরিত্র খুঁজতে থাকি। যে ছবিগুলো সম্প্রতি করেছি আর করছি, প্রতিটি কাজ নিয়ে আমার অনেক ভরসা। আমি ইদানীং এটাও অনুভব করি, আমার দিকেও প্রযোজক, নির্মাতা আর দর্শকরা তাকিয়ে আছেন তৃষিত হয়ে। তাই আমার এই বিরামহীন ওড়াউড়ি!’’

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.