টেস্ট দ্বিতীয় দিনে চালকের আসনে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচের দ্বিতীয়দিনে চালকের আসনে বাংলাদেশ। মেহেদি মিরাজের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে বড় রান পেয়ে যায় বাংলাদেশ। তুলে ফেলে ৪৩০ রান। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই মুস্তাফিজের তোপে দুই উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। শেষ পর্যন্ত ওই দুই উইকেটে ৭৫ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে সফরকারীরা।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওপেনার ও অধিনায়ক ক্রেগ ব্রাথওয়েট ৩৯ রান করে ক্রিজে আছেন। তার সঙ্গী চারে নামা এনকুরুমা বোনার করেছেন ১৭ রান।
শুরুতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার জন ক্যাম্পবেলকে (৩) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফিরিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে চতুর্থ বলেই ক্যারিবিয়ান শিবিরে আঘাত হানেন তিনি।
পরের বলেও আউটের জোরালো আবেদন তুলেন মুস্তাফিজ। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে আঙুলও তুলেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান ব্যাটিংয়ে নামা শেন মোসেলে। অবশ্য এর আগে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ক্যাম্পবেল।

তবে মুস্তাফিজের হাত থেকে বাঁচতে পারলেন না শেন মোসেলে। একই ভাবে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে শেন মোসেলেকে(৩) সাজঘরে ফেরান এ বা হাতি পেসার।
গতকাল শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। এদিন টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।
এর আগে মেহেদী হাসান মিরাজের অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করে ৪৩০ রান। দলের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি ব্যক্তিগত ১০৩ রান করে ফেরেন। রাকিম কর্নওয়ালের বলে বিদায় নেয়ার আগে ১৬৮ বলে ১৩টি চার হাঁকান তিনি। মিরাজের ব্যাটেই দলীয় ৪০০ রানের গণ্ডি পার করে বাংলাদেশ।

বুধবার প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই লিটন দাসকে হারায় বাংলাদেশ। ৯৭ বলে ৪টি চারে ৪১ রান করেছেন তিনি।
লিটন ফেরার পর সাকিবের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনে ৬৭ রানের জুটি গড়েন। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে প্রথম টেস্ট ম্যাচেই দারুণ হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সাকিব। গতকাল দিন শেষে সাকিব অপরাজিত ছিলেন ৩৯ রান করে। আজ তিনি আউট হন ৬৮ রান করে। টেস্টে সাকিবের এটি ২৫তম হাফ সেঞ্চুরি। দলীয় ৩১৫ রানে রাখিম কর্নওয়ালের বলে ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের হাতে ক্যাচ হন সাকিব।
সাকিব ৬৮ রান করে আউট হলেও তাইজুল ইসলাম, নাইম হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানদের নিয়ে শেষ তিন উইকেটে ১১৫ রান যোগ করেন মিরাজ। ব্যাটিংয়ে নেমে মিরাজ শুরু থেকেই খেলতে থাকেন রানের চাকা সচল রেখে। জোমেল ওয়ারিকানকে সুইপ কিংবা কেমার রোচের ফুল লেন্থের ডেলিভারি অনড্রাইভে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে আত্মবিশ্বাসের জানান দিয়েছেন তিনি।

ইনিংসের সেরা শট ছিল ইনিংসের ১১৭তম ওভারে। ওয়ারিকানের মিডল-লেগস্ট্যাম্পের ডেলিভারিতে ইনসাইড আউট শটে এক্সট্রা কভার দিয়ে দৃষ্টিনন্দন এক বাউন্ডারি হাঁকান তিনি।
মধ্যাহ্ন বিরতির সময় তিনি অপরাজিত থাকেন ৪৬ রানে। বিরতির পর ফিরে কর্নওয়ালের ওভারে প্রথমে থার্ড ম্যানে ৩ রান নিয়ে পৌছান ৪৯ রানে, পরে ফাইন লেগ দিয়ে ২ রান নিয়ে পূরণ করেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি।
২৪ রান করে নাঈম আউট হয়ে যাওয়ার পর মিরাজের সেঞ্চুরি হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত মুস্তাফিজকে সঙ্গে নিয়ে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছে যান মিরাজ। ১০৩ রান করার পর রাকিম কর্নওয়ালের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন মিরাজ। ততক্ষণে বাংলাদেশের রান পৌঁছে গেলো ৪৩০-এ। মুস্তাফিজ অপরাজিত ছিলেন ৩ রানে।
ক্যারিবীয় বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন জোমেল ওয়ারিক্যান। দুই উইকেট পান রাকিম কর্নওয়াল। এছাড়া কেমার রোচ, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল ও এনক্রুমাহ বোনার একটি করে উইকেট দখল করেন।
প্রথম দিন ওপেনার সাদমান ইসলাম ৫৯ রান করে দলের ভিতটা গড়ে দেন। দিন শেষে সাকিব ৩৯ ও লিটন ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৩৮ রান করে আউট হন মুশফিকুর রহিম। ক্যারিবিয়ান স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান গতকাল ৫৮ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নিয়েছিলেন।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের এটি চতুর্থ ম্যাচ। এর আগের তিনটি ম্যাচেই বাংলাদেশ হেরেছে। বাংলাদেশের সামনে এবার জয় তুলে নেয়ার বড় সুযোগ। কারণ এবারের সফরে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে আসেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.