যমুনার বুকে ভটভটি ও ঘোড়ার গাড়ি

১০

টি এম কামাল ॥ যমুনার বুকে চলছে ঘোড়ার গাড়ি আর ভটভটি-অটোরিকশা। পলি-বালু পড়ে ভরাট হয়ে যমুনার তলদেশ ওপরে উঠে আসায় নদীর বুকে জেগে উঠেছে অসংখ্য বিশাল বিশাল চর ও ডুবোচর। সেই সাথে নদী প্রায় পানি শূন্য হয়ে পড়ছে। এতে দেশের উত্তরাঞ্চলের শিল্প, নৌ-যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, জীববৈচিত্য জীববৈচিএ্য ও কৃষি খাত হুমকীর মুখে পড়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তির পর নদীর বুকে চুক্তি মাফিক পানি আসেনি। যমুনা নদীর কোনো কোনো স্থানে পায়ে হেঁটে ও মেঠো পথে ঘোড়ার গাড়িতে চলছে নদী পারাপার। যমুনার পাড়ে এখন গাঙচিল, বেলেহাঁস আর ধবল বক দেখা যায় না। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় প্রায় মাছ শূন্য বিশাল যমুনা। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় যমুনা সেতুর নিচে ধু ধু বালুচর। যমুনার নদীর বুকে ২৫টি জেগে উঠেছে চরের পর চর। কোনো কোনো স্থানে বালু স্থায়ী মৃত্তিকায় রূপ নেয়ায় চলছে ফসলের আবাদ। ওইসব চরে কৃষক চিনা বাদাম, ধান, ভূট্রা, টমেটো, বিভিন্ন সবজি, আখসহ নানা রকম রবিশস্য আবাদ করেছে। পলি ও বালু জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদী এখন মৃতপ্রায়। ফলে এ অঞ্চলের সেচব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, শুধু ফারাক্কার প্রভাবে বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প-কারখানা সবকিছুতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। মিঠাপানি ছাড়া কৃষিকাজ ও কোনো ধরনের শিল্প-কারখানা চলতে পারে না।

কাজিপুরে যমুনা নদীর বুকজুড়ে অসংখ্য চর। যমুনা সেতুর নিচে চর পড়েছে। যমুনা নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় জ্বালানি তেল ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ অর্ধেক লোড নিয়ে বাঘাবাড়ী বন্দরে ভিড়ছে। নাটুয়ারপাড়া-মেঘাই, মেঘাই-খাসরাজবাড়ী, চরগিরিশ-মেঘাই, তোকানী-খুদবান্দি নৌরুটে নৌকা চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

নদী কিশেষজ্ঞরা বলেন, পানি প্রবাহের মাত্রা ৪০ হাজার কিউসেক হলে নদীতে পলি জমতে পারে না। তলদেশও ভরাট হয় না। প্রবাহ কম বলে যমুনার বুকে মাইলের পর মাইল চর জেগে উঠছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক প্রকৌশলী জানান, যমুনার যে বিপুল আয়তন তাতে স্বাভাবিক প্রবাহ থাকলে প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টির কথা উঠতো না। পানি বিশেষজ্ঞদের অভিমত, উজানে ভারতের নদী কেন্দ্রিক পরিকল্পনার কারণে পলি পড়ে যমুনা নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আর এর প্রভাবে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে ৮৫টি নদী পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। পানির এই সঙ্কট কাটাতে নদীগুলো খননের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ ও রাজবাড়ীর পাংশায় গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের বিকল্প নেই বলে তারা জানিয়েছেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.