কাজিপুরে বাঁধের ওপর হাজার হাজার শীতার্ত মানুষ

২১

টি এম কামাল ॥ বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ (বেড়িবাঁধের ওপর) বসবাসকারী শীতার্ত মানুষের আহাজারির শেষ নেই। কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ সদর ও বেলকুচি উপজেলার যমুনাতীরের প্রায় ১০০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। শীত এলেই এদের কষ্টের মাত্রা বেড়ে যায়। যমুনার ভয়াবহ ভাঙনের শিকার হয়ে জেলার বিভিন্ন চর এলাকায় অসহায় লোকজন বাঁধের দু’ধারে ঘর তৈরি করে দিনের পর দিন বসবাস করে আসছে। এসব লোকজন খুবই দুঃখ-কষ্টে ছোট খুপড়ি ঘরে থাকে। উপরের ছিন্নভিন্ন চালা দিয়ে রাতের শিশির তো পড়েই তার ওপর আছে নিচের মাটির কনকনে হিম শীতলতা। বিছানা বলতে তো একটা ছেঁড়া ও মিলন পাতলা কাথাঁ। বাঁধের আশ্রয় গ্রহণকারীদের সম্বল হচ্ছে একটি কুপিবাতি ও ছেঁড়া কাথাঁ।

বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ এলাকা গিয়ে দেখা য়ায় ছিন্ন বস্ত্র পরিহিত বয়স্করা গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত াকলেও শীতে কাঁপছে। আর অধিকাংশ দিগম্বর শিশু-কিশোর দৌড়ঝাঁপ করে কম দামের মুড়ি ও মোয়া খাচ্ছে। বাঁধের সহায়-সম্বলহীন কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধের ওপর খড়কুটা জ্বালিয়ে তাদের শীত নিবারণ করতে হয়। কিন্তু প্রতিদিন এ খড়কুটা কোথায়ই বা পাওয়া যাবে? নিকটস্থ ধানের ক্ষেত থেকে ওগুলো আনতে গেলে জমির মালিকরা তেড়ে আসে। শীতার্ত এসব লোক আরও জানায়, ভোট এলেই তাদের খোঁজ পড়ে। নানা কিছু দেয়ার আশ্বাস দেন নেতা-কর্মীরা। কিন্তু ভোট শেষ হলে নেতাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। বৃষ্টির পানি, সূর্যের অসহ্য তাপ আর শীতের তীব্রতা সহ্য করে তারা কোনক্রমে বেঁচে আছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.