বগুড়ার পরকীয়া দেখে ফেলায় এখন কাল হয়ে দাড়িয়েছে

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

১১১

আব্দুল ওয়াদুদ, বগুড়া থেকে : 
পরকীয়া দেখে ফেলায় গ্রাম মাতব্বরের রোষানলে পড়েছেন দরিদ্র একটি পরিবার। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ছেলেকে জেল খাটিয়েছেন। এরপরও ক্ষান্ত হননি গ্রামের ওই মাতব্বর। এখন স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে শ্লীলতাহানির হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে ৫ টায় বগুড়ার শেরপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ধুনট উপজেলার কুঁড়িগাতী গ্রামের রমজান আলী সেখের স্ত্রী বাছেনা খাতুন। তবে যোগাযোগ করা হলে এই বিষইয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি অভিযুক্ত আবু হাসেম নামের ওই মাতব্বর।

লিখিত বক্তৃতায় বাছেনা খাতুন বলেন, ছেলে সোহাগ বাবু ইট ভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন। আর এই সুযোগ নেন গ্রাম্য মাতব্বর আবু হাসেম। ছেলের বউয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। এমনকি ছেলের ঘরের মধ্যে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা হয় তাকে। কিন্তু উনি প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাইনি। তবে আপোষ-মিমাংসার মাধ্যমে ছেলে সোহাগ তার স্ত্রীকে তালাক দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই গ্রাম্য মাতব্বর।
এরই ধারাবাহিকতায় বিগত বছরের ২৭ ডিসেম্বর মারপিট করা হয় তার ছেলেকে। সেই সঙ্গে গাছের সঙ্গে বেঁধে তার ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। পরবর্তীতে চুরির নাটক সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয় ছেলে সোহাগকে। তবে বেশকয়েকদিন জেল-হাজতে থাকার পর বর্তমানে জামিনে বেড়িয়ে এসেছে।
বাছেনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, মিথ্যা মামলায় ছেলেকে জেল খাটিয়েও ক্ষান্ত হননি মাতব্বর আবু হাসেম। তার বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়াকে শ্লীলতাহানির হুমকি-ধামকিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন তারা। এমনকি প্রভাবশালী ওই মাতব্বরের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতেও সাহস পাচ্ছেন না। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ন্যায় বিচারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ধুনটের কুঁড়িগাতী গ্রামের অভিযুক্ত মাতব্বর আবু হাসেম কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.