তানোরে আ’লীগ সভাপতির ভোট কেন্দ্রেই পরাজিত নৌকা

১০

ইমরান হোসাইন, তানোর (রাজশাহী) :
গেলো ৩০ জানুয়ারী তৃতীয় ধাপে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ পৌরসভায় মেয়রপদে তীরে এসে ডুবেছে নৌকা। বিদ্রোহী প্রার্থী সাইদুর রহমানের কাছে মাত্র ৬১ ভোটে পরাজিত হয়েছেন আ’লীগ মনোনীত নৌকার মেয়রপ্রার্থী আমির হোসেন আমিন। তিনি পেশায় কৃষি ও ব্যবসার পাশাপাশি মুন্ডুমালা হাটের সিয়ারদার। সম্প্রতি মেয়র সাইদুর রহমান পেশায় তিনি প্রথমে ছিলেন টোকাই। পরে মুন্ডুমালা বাজারে কুলি কাজের পাশাপাশি চিনাশো গ্রামের রাইচ মিলে হেলপার ছিলেন। এঅবস্থায় মাদক ব্যবসায় জড়িত হলে বেশ কয়েকবার জেলও খাটেন তিনি। বর্তমানে মুন্ডুমালা পৌরসভায় তার স্ত্রীর নামে ঠিকাদারী ব্যবসার সঙ্গে মুন্ডুমালা মহিলা কলেজের নৈশপ্রহরী পদে চাকুরীরত সাইদুর রহমান।

স্থানীয় সূত্র বলছে, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি মেয়র গোলাম রাব্বানীর নিজ ভোট কেন্দ্রেই এতো বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকার পরাজয় ঘটেছে। অপরদিকে, নবনির্বাচিত মেয়র সাইদুর রহমান তার নিজ ভোট কেন্দ্রেই নৌকার কাছে পরাজিত হন। মোট ১০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭টি কেন্দ্রেই নৌকা বিজয়ী। কিন্তু সভাপতির ভোট কেন্দ্রেই এতো বিপুল ভোটে নৌকার পরাজয় মেনে নেয়ার নয়। ফলে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কিছুতেই তা মানতে পারছেন না। আতœহতি ও হায় হুতাশ করছেন সবাই। উপজেলা নির্বাচন অফিসার সুষ্মিতা রায় জানান, মুন্ডুমালা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চুনিয়াপাড়া কেন্দ্রে ভোট দেন তানোর উপজেলা আ’লীগ সভাপতি মেয়র গোলাম রাব্বানী। এই কেন্দ্রই বিপুল ভোটে পরাজয় ঘটেছে নৌকার। এখানে ভোটার সংখ্যা ছিল ২২২৮। এরমধ্যে ভোট দেন ১৯৩৪ জন। তবে, ৪৭ ভোট বাতিলও হয়।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বলছেন, ওই কেন্দ্রে সভাপতি গোলাম রাব্বানী চেয়ার নিয়ে সারাক্ষণ বসে ছিলেন। এসময় ঈশারায় ও ইঙ্গিতে বিদ্রোহী সাইদুরকে ভোট দেবার জন্য বলা হয়। ্তাড়াও রাব্বানী ওই কেন্দ্রেই তার মনোনীত ব্যক্তি সাইদুরকে ভোট দেন তিনি। তার ঈশারায় ও খেদমতে নৌকাকে ডুবিয়ে বিদ্রোহী সাইদুর জগ প্রতীকে ১০৪৯ ভোট পেয়েছেন। আর নৌকা প্রতীকে ৫৫৮ ভোট পেয়ে আমিন পরাজিত হন। তবে, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী ফিরোজ কবির শুধু ২৮০ ভোট পান। সভাপতির এমন কারসাজি মেনে নেয়ার নয়। তারা অবিলম্বে সভাপতি পদ থেকে রাব্বানীর পদত্যাগ দাবী করেন। এব্যাপারে মুন্ডুমালার বাসিন্দা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শরিফ খাঁন বলেন, আ’লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আমিন ও বিদ্রোহী প্রার্থী সাইদুর মুন্ডুমালা বালিকা দাখিল মাদ্রাসা একই কেন্দ্রের ভোটার। নিজ কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে আমিন ৫৭৪ ভোট পান। কিন্তু সাইদুর তার নিজ ভোট কেন্দ্রেই নৌকার কাছে ১৪৭ ভোটে পরাজিত হন।

তিনি আরও বলেন, এই হিসেব থেকে বোঝা যায়, আ’লীগ সভাপতির ঈশারায়, ইন্ধনে ও তার খেদমতে তীরে এসে তার কেন্দ্রেই নৌকাকে ডুবিয়েছেন রাব্বানী। এঅবস্থায় তাকে আ’লীগের সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহবান জানান শরিফ খাঁন। এবিষয়ে আ’লীগ সভাপতি মেয়র গোলাম রাব্বানী বলেন, ভোট কেন্দ্রে অনেকক্ষণ বসে ছিলেন তিনি। তবে, তার কেন্দ্রই এতো বিপুল ভোট পায় বিদ্রোহী সাইদুর কিভাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, সাইদুর তার ব্যক্তিগত পরিচয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছে। শপথ গ্রহণের পর তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হবে। আগামীতে সভাপতি পদ থেকেই এমপি নির্বাচিত হয়ে আরও একটি চমক দেখাবেন বলে জানান রাব্বানী।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.