আমরা কখনো ভাবিনি পাকা ঘরে থাকতে পারবো’

৪৮

পাভেল মিয়া, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ সারিয়াকান্দি উপজেলার ১০৭ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাকা ঘরে ঘুমাবেন; এটা তাদের কল্পনারও অতীত ছিল। কিন্তু ঘটনা এখন বাস্তবে তা-ই ঘটেছে। আরও পেয়েছেন এক খন্ড জমি। আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার” মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন তারা। চারদিকে ইটের দেয়াল এবং মাথার ওপরে দেওয়া হচ্ছে সবুজ রঙের টিনের ছাউনি। দুই রুম বিশিষ্ট বাড়িতে রয়েছে একটি রান্না ঘর ও টয়লেট। শুধু ঘরই নয়, প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানিরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই কার্যক্রমকে সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ডোমকান্দি এলাকায় ২৭ টি, হাটশেরপুর শাহানবান্দা এলাকায় ৪০ টি, চালুয়াবাড়ী বিরামের পাচগাছি এলাকায় ৪টি, কাজলা শাহজালাল বাজার ২৮টি, কুতুবপুর ইউনিয়নের বড়ইকান্দি ও মাছিরপাড়া এলাকায় ৮টি। প্রতিটি ঘরের খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
সারিয়াকান্দি হিন্দুকান্দি গ্রামের জাহেরা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার এক ছেলে এক মেয়ে, ওরা সবাই আলাদাভাবে থাকে। আমি মানুষের বাড়ি বাড়ি চেয়ে খাই, একদিন জোটে তো, আরোকদিন জোটেনা। কোনোদিন না খেয়েও থাকতে হয়। একা‘বাঙ্গালী নদীর ধারে থাকতাম, বৃষ্টি এলে খুউব কষ্ট হতো। তারপরেও কষ্ট করে সেখানে থাকতাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হামাগিরেক পাকা ঘর দিছে, এতে করে হামারগিরে কষ্ট ঘুচবে। হামরা খুশি। এজন্য শেখ মুজিবুরের বেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ।’
অপর উপকারভোগী দিলবাসি বেগম বলেন, হামি মানুষের বাড়ি বাড়ি থাকতাম , বাড়ি-ঘর এমনকি নিজের বলতে কিচ্ছু নেই, খুব কষ্ট করে মানুষের জায়গায় থাকি। শেখ হাসিনা হামাক ঘর দিছে, হামি খুব খুশি। হামি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, প্রধানমন্ত্রী যেন দীর্ঘজীবী হয় ও মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করতে পারে।

তার মতো আরেক পরিবারের সবুজ বলেন, আমি ভুমিহীন মানুষ, পরের জায়গায় ভাঙাচোরা বাড়ি-ঘর আছে, সেখানে কোনোরকমে ছেলে-মেয়ে নিয়ে কষ্ট করে থাকি। আমরা কখনো ভাবিনি পাকা ঘরে থাকতে পারবো’ এখন এই যে সুন্দর বাড়ি ঘর দিচ্ছে এটা পেয়ে আমাদের খুব উপকার হয়েছে। যা কখনো ভুলবার নয়। প্রধানমন্ত্রীর জন্য সারাজীবন প্রাণভরে দোয়া করবো।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সারওয়ার আলম বলেন, আমরা এ কাজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সর্বোচ্চ সর্তককতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্বপালনের চেষ্টা করেছি।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাসেল মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন মুজিববর্ষে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। উপজেলায় ১০৭ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছেন ওই ঘর।
উল্লেখ্য, ২৩ জানুয়ারি শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে সারা দেশের ন্যায় বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের এসব বাড়ি হস্তান্তর করেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.