কাজিপুরে দেড় লাখ মানুষ নদী পারাপারে দুর্ভোগে

১৯

টি এম কামাল ॥ সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নের নারী-শিশুসহ প্রায় দেড় লাখ মানুষকে প্রতিদিন নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জীবন রক্ষাকারী উপকরণ না থাকা, যাত্রী হয়রানিসহ নানা অভিযোগ করেছে তোকানী-খুদবান্দী, মেঘাই-মাজনাবাড়ী, চরগিরিশ-মেঘাই, খাসরাজবাড়ী- মেঘাই, মেঘাই-নাটুয়ারপাড়া নৌবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীরা। ছইবিহীন নৌকায় রোদ বৃষ্টিতে পারাপারে ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাদের।

নৌবন্দর ও খুদবান্দী-পানাগাড়ী ঘাট ব্যবহার করে যমুনা নদীর চরাঞ্চলের নাটুয়ারপাড়া, তেকানি, খাস রাজবাড়ী, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ ও মনসুর নগর ইউনিয়নের মানুষ, ৮৫টির অধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও অন্যান্য পেশার মানুষ। এ ছাড়াও কাজিপুরের শস্যভান্ডার খ্যাত যমুনা নদীর চরাঞ্চলে উৎপাদিত যাবতীয় কৃষি পণ্য, গবাদিপশু, কৃষি উপকরণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন চলে নিয়মিত। সদরের মেঘাই ও চরাঞ্চলের নাটুয়ারপাড়া নৌঘাট জামালপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে আসছে শতবর্ষেরও বেশি সময় ধরে। নৌযাত্রী ফাতেহাতুজ্জাহান বলেন, মাঝ নদীতে বৃষ্টি নেমেছে। ছইহীন নৌকায় বাচ্চাসহ চরম আতঙ্কে ছিলাম। নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের এক সদস্য বলেন, প্রতিদিন কয়েক হাজার নৌযাত্রী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। সন্ধ্যার পর পারাপার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং উপজেলা পরিষদের ডাক বাংলো ছাড়া রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা না থাকায় আটকে পড়া যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ঘাট এলাকায় রাত কাটায়।

কাজিপুরের নাটুয়ারপাড়া-মেঘাই নৌঘাটকে বাংলাদেশের ৩২ নাম্বার নদীবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বন্দরের আধুনিক সুযোগ-সুবিধার কাজ এখনও পর্যন্ত শুরু হয়নি। বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের অধীনে ইজারার মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে শুল্ক আদায়কারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নৌবন্দর ইজারা গ্রহিতা টি,এম জাহিদুল ইসলাম শামীম মেম্বার বলেন, প্রথমবারের মতো বন্দর শুল্ক আদায়ের আওতায় আনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকব। কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আছে। বন্দর ব্যবহারকারী নৌযানের লাইসেন্স, ফিটনেস সার্টিফিকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যাত্রী সাধারণের জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামাদি নিশ্চিত করতে ইজারা গ্রহীতাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। যার অনুলিপি ডিসি, এসপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, থানা এবং নাটুয়ারপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠানো হয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.