যে অভিযোগে আটক করা হয়েছে সু চিকে

৬৮

সামরিক বাহিনীর অভিযানে আটক হলেন মিয়ানমারের ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চি। আটক করা হয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকেও। এনএলডি’র এক মুখপাত্র তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। বন্ধ আছে মোবাইল, ইন্টার সার্ভিস ও সম্প্রচার কার্যক্রম। ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ট সোয়েকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছে সেনাবাহিনী। এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে দেশটিতে।
গেল বছরের ৮ নভেম্বর দেশটিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন নিয়ে অং সান সুচি’র দল এনএলডি এবং শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। নির্বাচনে এনএলডি ৩৬৪ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) প্রতারণা ও ভোট কারচুপির অভিযোগ করে আসছে শুরু থেকেই। পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী আজ সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সংসদ অধিবেশন আহ্বান করার কথা ছিল। তবে সেটা স্থগিতের কথা বলে সামরিক বাহিনী। নির্বাচন সংক্রান্ত উত্তেজনার ভেতরেই সোমবার ভোরে এক অভিযানে সু’চি ছাড়াও বেশ কয়েকজনকে শীর্ষ নেতাকে আটক করে সেনাবাহিনী।

আটকের পরপরই মিয়ানমারের রাজধানী নিপিড এবং প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা। কারিগরি ত্রুটির কথা জানিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এমআরটিভি।
এ ঘটনার পর সেনা নিয়ন্ত্রিত মিয়াওয়াদি টেলিভিশনে এক ঘোষণায় জানানো হয়, আগামী এক বছর জরুরি অবস্থা বহাল থাকবে দেশটিতে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ট সোয়ে। এছাড়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা যাবে প্রতিরক্ষা বিভাগের কমান্ডার ইন চিফ মিন অং লাইং এর কাছে।
১৯৬২ সালের এক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে একটানা ৪৯ বছর চলে সামরিক বাহিনীর শাসন। ২০১৫ সালে ঐতিহাসিক এক নির্বাচনে সু চি’র দল ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হলে প্রায় পাঁচ দশকের সামরিক শাসনের অবসান ঘটে। সবশেষ ২০২০ সালের নভেম্বরের নির্বাচনেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.